যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে এবার কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার (২৮ জুন) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকার এই হামলা দুই দেশের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতিকে সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

রোববার ভোরে এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে ব্যাপক তৎপরতা ও সতর্কতা দেখা গেছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আকস্মিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য যে কোনো হামলা প্রতিহত করতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক জরুরি পোস্টে জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং সাধারণ বাসিন্দাদের অনতিবিলম্বে নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের পূর্ববর্তী হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে মার্কিন বাহিনী একযোগে ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রে মাইন পাতা সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর সেই আগ্রাসনের জবাবেই ইরান এই পাল্টা আঘাত হানলো।
মার্কিন হামলার পর আমেরিকার বিরুদ্ধে নতুন করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আগামী দিনগুলোতে নরকযন্ত্রণা ভোগ করবে।’

আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, "সিরিক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কৌশলগত ও সামরিক নিয়ন্ত্রণকে বিন্দুমাত্র দুর্বল করতে পারেনি। নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর ওপর আমাদের গুলি চালানো অন্য আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর জন্যও একটা স্পষ্ট বার্তা— কোন পথ দিয়ে তাদের নিরাপদে চলাচল করতে হবে।"

বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর পরিণতি নিয়ে সতর্ক করে আরও বলা হয়, "এই অঞ্চলে অবস্থান করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার ফল ভালো হবে না। আগামী দিনগুলোতে তারা তীব্র নরকযন্ত্রণা ভোগ করবে।"

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের এই সরাসরি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দামামা বেজে উঠলো, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।