রাজধানীর লা মেরিডিয়ান ঢাকায় সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের ফ্ল্যাগশিপ আয়োজন ‘১২তম ডিজিটাল সামিট’। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)-এর পরিবেশনায় ও ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সামিটে অংশ নেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞাপন ও বিপণন পেশাজীবী, ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ, প্রযুক্তিবিদ, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।
ক্রম উদ্ভাবনশীল ডিজিটাল দুনিয়ায় কৌশল, গল্প বলা, প্রযুক্তি আর তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্রমবর্ধমান সম্মিলন—এই বিষয়গুলো নিয়েই দিনব্যাপী অর্থবহ আলোচনার মঞ্চ হয়ে ওঠে এবারের সামিট।
এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘রিথিংকিং ডিজিটাল – স্ট্র্যাটেজি, স্টোরি অ্যান্ড সায়েন্স’। দিনব্যাপী আলোচনায় উঠে আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বদলে যাওয়া ভোক্তা প্রত্যাশা, প্ল্যাটফর্ম ডিসরাপশন এবং সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সম্মিলনের মতো সমসাময়িক বিষয়গুলো। দ্রুত বদলে যাওয়া এই বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নিখুঁত পরিকল্পনা নিয়ে পথ চলবে, সেটিই ছিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
সামিটের উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং নির্বাহী সম্পাদক সাজিদ মাহবুব বলেন, "ডিজিটাল এখন আর কেবল একটি চ্যানেল বা ফাংশন নয়। এটি এখন সেই ভিত্তি, যার ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে প্রাসঙ্গিকতা, আস্থা ও প্রবৃদ্ধি। প্রযুক্তি যখন বাজার আর ভোক্তা আচরণকে নতুন করে সাজাচ্ছে, তখন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৌশলগত স্পষ্টতা, সৃজনশীল উৎকর্ষ আর তথ্যনির্ভর প্রজ্ঞাকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে হবে।"
এবারের সামিটে ছিল ৩টি কিনোট সেশন, ৩টি প্যানেল ডিসকাশন, ৩টি ইনসাইট সেশন, ২টি কেস স্টাডি এবং ১টি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ।
তিনটি বিশেষ কিনোট সেশন পরিচালনা করেন খাতের শীর্ষ তিন বিশেষজ্ঞ তানভীর ফারুক, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, কাজী মিডিয়া লিমিটেড। দ্রাবির আলম, চিফ Operating অফিসার অ্যান্ড ডিরেক্টর, এক্স – ইন্টিগ্রেটেড মার্কেটিং এজেন্সি। সালেহ ঘানায়েম, হেড মেটাপ (মিডল ইস্ট, টার্কি, আফ্রিকা অ্যান্ড পাকিস্তান), ইমার্জিং মার্কেট পার্টনারশিপ, টিকটক।
এই সেশনগুলোতে অ্যালগরিদম-চালিত বিশ্বে মানবকেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধি, সোশ্যাল-ফার্স্ট মার্কেটিং কৌশল, ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বিবর্তন, ক্রিয়েটর ইকোনমির উত্থান এবং ব্যবসার সহায়ক শক্তি হিসেবে এআই-এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়াও প্যানেল ও ইনসাইট সেশনে দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট ব্যক্তিত্বরা আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম: গুগল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পার্টনার ডিরেক্টর আহসানুর রহমান (অ্যালেফ গ্রুপ), অ্যাক্সেনটেক পিএলসি-র হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন মুনাফ মোজিব চৌধুরী, ইগনিশিয়া থ্রি সিক্সটি লিমিটেডের এমডি ও সিইও সৈয়দা উম্মে সালমা ঝুমুর, গিকি সোশ্যাল-এর এমডি মাহাদী হাসান সাগর, এফসিবি বিটোপি-র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ইমতিয়াজ খান ইমরান, ফাস্টকম এআই-এর সিইও ইয়াসিন নুর এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক রফিউদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেকে।
২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ‘ডিজিটাল সামিট’ বর্তমানে দেশের ডিজিটাল মার্কেটার, যোগাযোগ পেশাজীবী ও ব্যবসায়িক নেতাদের অন্যতম প্রভাবশালী জ্ঞান-বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম। বছরের পর বছর ধরে উদীয়মান প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করা এই আয়োজনের ১২তম সংস্করণটিও সফলভাবে সম্পন্ন হলো।
এবারের আয়োজনের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিল—অ্যালেফ গ্রুপ ইনক., বিবিএফ সিএমও ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএএবি) ও এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (এএমএফ)। নলেজ পার্টনার হিসেবে মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এমএসবি), হসপিটালিটি পার্টনার লা মেরিডিয়ান ঢাকা, অফিশিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার টার্কিশ এয়ারলাইনস এবং পিআর পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ব্যাকপেজ পিআর।