ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে তেহরানের একের পর এক ছাড় দেওয়ার সদিচ্ছার ব্যাপারে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) গুরুতর সংশয় প্রকাশ করেছে। সিআইএর পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

সম্ভাব্য এই ইরান চুক্তিকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে। একদিকে সিআইএ প্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই চুক্তির বিরোধিতা বা সংশয় প্রকাশ করছেন; অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার চুক্তির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।

অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর উপদেষ্টারা হোয়াইট হাউজে উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকটি গোপন বৈঠক করেছেন। সেসব বৈঠকে এমন কিছু সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে, যেখানে ইরানের ভিন্ন বা গোপন উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত মিলেছে।

হোয়াইট হাউজ সূত্রের দাবি, এই চুক্তিতে অত্যন্ত কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্যগুলো হলো: ইরান কোনোভাবেই কোনোদিন পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। তেহরান তাদের নিজেদের কাছে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রাখতে পারবে না। পারমাণবিক সক্ষমতা বা কূটনীতিকে ব্যবহার করে ইরান যেন বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে জিম্মি করতে না পারে, তার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু সিআইএ প্রধানই নন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এই চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, ইরানি কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণভাবে এই চুক্তি নিয়ে নিজেদের মধ্যে যেভাবে আলোচনা করছেন, তা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেহরানের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে একেবারেই সংগতিপূর্ণ নয়। বৈঠকে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই দ্বিমুখী নীতির কারণে ওয়াশিংটন পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত যেসব শর্ত দিচ্ছে, তেহরান শেষ পর্যন্ত সেগুলোতে সত্যি সত্যি সম্মত হবে কি না—তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে।

“প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সব ধরনের ভিন্নমত ও যুক্তি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তবে সবাই জানেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল প্রেসিডেন্টের। এই চুক্তিটি প্রশাসনের দীর্ঘদিনের সব চূড়ান্ত শর্ত পূরণ করেই তৈরি হচ্ছে, যা ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেবে না।”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউজের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

সিআইএ ও প্রতিরক্ষা বিভাগের এই তীব্র সংশয়ের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত চুক্তির পথে হাঁটেন নাকি শর্ত আরও কঠোর করেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।