রাজনৈতিক মামলায় দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কারাবাস শেষে মুক্ত হয়ে কৃষিতে নিজের নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন তরুণ উদ্যোক্তা এ. এম আলী হায়দার নাফিজ। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার উত্তমপুর গ্রামে সমন্বিত কৃষি খামার 'জিনিয়াস অ্যাগ্রো' গড়ে তুলে তিনি এখন স্থানীয় তরুণদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল কর্মী নাফিজ কারামুক্তির পর প্রবাসী স্বজনের পরামর্শে নিজ গ্রামে এসে কৃষি কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে বিষমুক্ত শাক-সবজি চাষ, দেশি-বিদেশি ফলের বাগান এবং পুকুরে আধুনিক উপায়ে শিং, কই ও তেলাপিয়া মাছ চাষ হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রায় ১০০টি ছাগল, ভেড়া ও গাড়ল নিয়ে গড়ে উঠেছে তার গবাদিপশুর খামার। সবজি বিক্রি থেকে মাসে ৪০-৪৫ হাজার টাকা এবং মাছ ও গবাদিপশু বিক্রি থেকে নিয়মিত বড় অংকের আয় আসছে। বর্তমানে খামারটিতে ৭ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে, যা দেখাশোনা করেন তার বাবা মো. সিরাজুল ইসলাম।
সম্প্রতি খামারটিকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বন বিভাগ থেকে হরিণ পালনের অনুমোদন নিয়েছেন নাফিজ। রাজাপুর উপজেলা কৃষি ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর তাকে প্রয়োজনীয় সব কারিগরি পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষিত তরুণদের এমন আধুনিক ও সমন্বিত কৃষিতে এগিয়ে আসা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার ও বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে।