রাজবাড়ীর একমাত্র সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে হ্যাচারি কার্যক্রম বন্ধ রেখে খুঁড়িয়ে চলছে। সংস্কারহীনতায় খামারের ভবন ও শেডগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ার পাশাপাশি ১৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। এর মধ্যে ২০১৪ সাল থেকে ব্যবস্থাপকের পদটিও শূন্য রয়েছে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে।

খামার সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী শহরের নতুন বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে প্রায় ২ দশমিক ৮৮ একর জমির ওপর ১৯৮১-৮২ সালে খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এটি পরিচালনা করে। শুরুতে হ্যাচারি কার্যক্রমসহ এর যাত্রা শুরু হলেও ১৯৯৭ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে নাম পরিবর্তন করে ‘সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার’ করা হলেও বর্তমানে এখানে কোনো প্রজনন কার্যক্রম নেই।

নানামুখী সংকট সত্ত্বেও খামারটি পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে একদিনের বাচ্চা এনে লালন-পালন করে বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২০ হাজার বাচ্চা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১৮ হাজার ৭০টি বাচ্চা বিক্রি হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯০ শতাংশ। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হয়েছিল। খামারে বর্তমানে এক মাস বয়সী বাচ্চা ৮০ টাকা এবং ৪২ দিন বয়সী বাচ্চা ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবস্থাপক ও কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, বিক্রয়কেন্দ্র এবং বিভিন্ন শেডের পলেস্তারা খসে পড়েছে। পানির পাম্প, জেনারেটর ও গাড়িও নষ্ট হয়ে গেছে।

খামারে ১৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত চারজনের মধ্যে পোলট্রি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মো. মেহেদী হাসান ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া অফিস সহকারী, পোলট্রি টেকনিশিয়ান ও নিরাপত্তা প্রহরীর পাঁচটি পদের বিপরীতে আছেন তিনজন। ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট, ড্রাইভার, ইলেকট্রিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো সম্পূর্ণ শূন্য।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় এনজিও ফেডারেশনের সভাপতি লুৎফর রহমান লাবু জানান, সরকারি এই খামারটি আধুনিকায়ন ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা গেলে এটি এলাকার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

খামারের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. মেহেদী হাসান বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ভবন সংস্কার এবং শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করা হলে সেবার মান আরও বাড়ানো সম্ভব।

রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় অবকাঠামোগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। খামারটিকে আধুনিক প্রজনন খামার বা হ্যাচারিতে রূপান্তর করা গেলে বিপুলসংখ্যক বাচ্চা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। খামারের উন্নয়নে রূপরেখা তৈরি করে প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানান তিনি।