নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, অনৈতিক লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সম্পত্তি অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত উপজেলা শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ ওরফে বাবুল এবং শিক্ষিকা সাহিদা সবনমের বিরুদ্ধে। জালিয়াতি ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে এই দুজন অধিদপ্তরজুড়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। মিরপুরস্থ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত নূর মোহাম্মদের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুরের ধলী গ্রামে।
সরেজমিনে জানা যায়, সাধারণ পদে চাকরি করেও তিনি নিজ গ্রামে তৈরি করেছেন আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি এবং কিনেছেন বিঘার পর বিঘা জমি। সখীপুরের কালিয়া গ্রামে রয়েছে তার দুই একরের বিশাল মাছের ঘের এবং ছয় একরের মালটা বাগান। কেবল গ্রামেই নয়, রাজধানীর খিলক্ষেত ও পূর্বাচল সংলগ্ন বড়ুয়া বাগানবাড়ি এলাকায় রয়েছে একাধিক দামি প্লট ও বাসভবন। একজন সরকারি চাকরিজীবীর আয়ের সাথে এমন বিপুল সম্পদের বৈষম্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
অভিযোগে প্রকাশ, সাবেক এমপি নাদিরা ইয়াসমিন জলির আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সাহিদা সবনম। এই ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি সরকারি আচরণবিধি ভেঙে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পাবনা সদরেই কর্মরত আছেন। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে তার সক্রিয় উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তবে নূর মোহাম্মদের হস্তক্ষেপে সেই তদন্ত ফাইলচাপা পড়ে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে। নূর মোহাম্মদ ও সবনম কখনোই একই কার্যালয়ে চাকরি না করলেও দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে রহস্যজনক সিন্ডিকেট। কুড়িগ্রামে কর্মরত থাকাকালে নূর মোহাম্মদ প্রশিক্ষণের বাহানায় পাবনায় সবনমের বাসায় যেতেন। অন্যদিকে সবনম ঢাকায় এলে ডরমিটরি কিংবা স্বামীর বাসা এড়িয়ে ফার্মগেটের কৃষিবিদ রেস্ট হাউসে নূর মোহাম্মদের আতিথেয়তায় অবস্থান করতেন। এছাড়া গভীর রাতে পূর্বাচলে সম্পত্তি কেনাবেচার অজুহাতে তাদের একসাথে ঘুরে বেড়ানোর অগণিত নজির রয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে নারায়ণগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ‘নাহিদা’ নামের এক নারী সহকর্মীকে জোরপূর্বক শারীরিক লাঞ্ছনা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী নারী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত বিচার চাইলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সেই তদন্ত প্রতিবেদনও ধামাচাপা পড়ে রয়েছে। সরকারি চাকরি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপপ্রয়োগ ও সহকর্মীদের হেনস্তা করাই এই সিন্ডিকেটের মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন সাধারণ কর্মকর্তা কীভাবে পুরো দপ্তরকে জিম্মি করে অঢেল সম্পত্তির মালিক হন—তা নিয়ে অধিদপ্তরজুড়ে সমালোচনা চলছে। অবিলম্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করা উচিত।