স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় এবং কাজ করার সামর্থ্য না থাকায় তিন সন্তানকে নিয়ে ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসার ও পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন ইয়াসমিন আক্তার। সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া এই নারীর কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। গত বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাপ্তাহিক গণশুনানিতে ইয়াসমিন নিজেই অটোরিকশা চালিয়ে হাজির হন এবং তার পারিবারিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।
ইয়াসমিনের সংগ্রামের প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের শ্রমে সংসার চালানোর চেষ্টা এবং কারও কাছে হাত না পাতার বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ সময় ইয়াসমিনের অটোরিকশার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন এবং তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি তাকে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী, উপহারসামগ্রী এবং সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করা হয়। সহায়তা পেয়ে ইয়াসমিন জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শুধু ইয়াসমিন নন, বুধবারের ওই গণশুনানিতে আরও বহু মানুষের জীবনসংগ্রামের নানা গল্প উঠে আসে। সরাসরি ২১ জন সেবাপ্রত্যাশী এই শুনানিতে অংশ নেন। ক্যানসারের চিকিৎসা, সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিসের খরচ, প্যারালাইসিসে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলা ব্যক্তি, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী ওমর ফারুকসহ অসুস্থ ও অসহায় ১০ জন এবং একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া আর্থিকভাবে অসচ্ছল একজনকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয় এবং জমিজমা ও সম্পত্তি জবরদখলসহ অন্যান্য অভিযোগ শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।