রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন এলাকায় এক নারী গার্মেন্টস কর্মীর ওপর হামলা চালিয়ে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক বেগ এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৭:৪০ ঘটিকায় দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ প্রাইমারী স্কুল রোডের কাঁচা রাস্তায় ছিনতাইয়ের এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোছা. রত্না (৩৫) ‘আব্দুল্লাহপুর বেসিক অ্যাপারেলস গার্মেন্টস’-এর অপারেটর হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা তার হাত থেকে প্রায় ৯,০০০ টাকা মূল্যের একটি ভিভো স্মার্টফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে অপর আসামি ধারালো ছুরি প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ডিসি উত্তরা, এডিসি দক্ষিণখান জোন এবং দক্ষিণখান থানার অফিসার ইনচার্জের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট দক্ষিণখান থানায় দণ্ডবিধির ৩৯২/৩৪ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক বেগ জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় দক্ষিণখান এলাকা ও গাজীপুরের গাছা থানাধীন বোর্ড বাজার এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মামলার ১নং এজাহারভুক্ত আসামি মো. জান্নাতুল নাঈমকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী এবং ভুক্তভোগীকে প্রথম আক্রমণকারী হিসেবে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া এই চক্রের সাথে জড়িত অপর পলাতক আসামি সাগর (৩৫), রানা (৩৩) এবং মনিরকে (৩৮) গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার ও আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে পুলিশ জানায়, ধৃত আসামির হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া ভিভো ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ধৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সম্প্রতি উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকায় খুন, চুরি ও ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ সব বিষয়ে ডিসি মির্জা তারেক বেগ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিনই অভিযান চালানো হচ্ছে এবং পুলিশের অভিযানে ছিনতাইকারীসহ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা গ্রেফতার হচ্ছে। এ ছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দিন-রাতে টহল জোরদারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগের সদস্যরা সাদা পোশাকে কাজ করছেন।