ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে চীন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে তাদের সকল অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের সীমানার মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
বেইজিং মনে করে, দুই দেশের এই স্বাভাবিক সহযোগিতায় তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি করা মোটেও উচিত নয়। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র লিন জিয়ান এই স্পষ্ট বার্তা দেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে ৬০টি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমুদ্রগামী জাহাজের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এই পদক্ষেপে ইরানের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত আসবে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, বেইজিং পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। চীনের মূল ভূখণ্ড বা তাদের কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তা রক্ষায় চীন যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
উল্লেখ্য, চীন ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, যার মধ্যে জ্বালানি তেল আমদানি অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ওপর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসলেও বেইজিং শুরু থেকেই বলে আসছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া এককভাবে আরোপিত কোনো দেশের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনসম্মত নয়। ফলে মার্কিন নতুন নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করেই চীন-ইরান বাণিজ্য অক্ষুণ্ন রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বেইজিং।
সূত্র: আল-আরাবিয়া।