টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গারোদের বসবাসরত এলাকার টেলকি থেকে কাকড়াগুণী। কাকড়াগুণী থেকে লাজারুশ সিমাসাং এর বাড়ি হয়ে দোখলা ও সাধুপাড়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থার কারণে কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষকরা। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি পাকা ও সম্প্রসারণ না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় অন্তত ১২ গ্রামের বাসিন্দাদের।

বর্ষাকালে কাঁদায় সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় ছোট বড় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও ভোগান্তিতে পড়ছে এমন তথ্য জানিয়েছে স্থানীয়রা।


কাকড়াগুণী গ্রামের লাজারুশ সিমসাং (৫৫) জানান, এ এলাকাটি কৃষি এলাকা। রাস্তা ভালো না থাকার কারণে কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। শিশুদের স্কুলে যেতে সমস্যা হয়। রোগী হাসপাতালে যেতে ২৫ কিলোমিটার ঘুরে মুক্তাগাছা উপজেলার গাবতলি হয়ে মধুপুর যেতে হয়।

ওয়ালেস মাঝি (৪৫) জানান, এ এলাকায় পিছিয়ে গারোদের বসবাস বেশি। অন্নুত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তারা পিছিয়েই থেকে যাচ্ছে। তিনি বলে কাকড়াগুণী বাজার থেকে সাধুপাড়া দেড় কিমি. লাজারুশের বাড়ি দোখলা পর্যন্ত ৩ কিমি.ও টেলকি বাজার পর্যন্ত ৪ কিমি. সড়ক পাকাকরণ জরুরি। পাকা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতির ফলে স্থানীয় বসতিদের জীবন মানেরও উন্নয়ন হবে।

বাবুল মানখিন ও সঞ্জয় সিমসাং বলেন, যে ফলের নাম বাজারে ৫০ টাকা। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বাগানে ৩০ টাকা বিক্রি করতে হয়। অথচ এ এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই যায়। কিন্তু কৃষকরা তেমন লাভ পায় না।

বিরাশ নেকলা জানান, তাদের গির্জায় যেতে বর্ষায় সমস্যা হয়। লোকজন উপাসনায়ে কমে যায়। হাট বাজারে যেতেও পোহাতে হয় সীমাহীন ভোগান্তি।

বিনোদিনী মানখিন বলেন, তারা এমনিতেই পিছিয়ে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পিছিয়েই আছেন। সড়কটি পাকা হলে তারা এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

মধুপুরের বিখ্যাত আনারসসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য এ সড়ক দিয়ে বাজারে নেওয়া হয়। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি ও কাঁদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, লাল মাটির কারণে মধুপুরের বিভিন্ন কাঁচা সড়কের অবস্থা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ফলে কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে স্থানীয় পরিবহনে বাজারজাত খরচ বেড়ে যায়। কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে। সড়কটি পাকা হলে কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবে।

টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, টেলকি-কাকড়াগুণীসহ স্থানীয় অন্যান্য সড়কের বরাদ্দের চাহিদা দেয়া আছে। বরাদ্দ পেলে কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সড়কটি পাকা ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সহজ হবে।