রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় ইস্ট বেঙ্গল সুপার মার্কেটে শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে মিতুল (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সূত্রাপুর থানাধীন ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ১৫ তলায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় মিতুলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত মিতুলের বাবার নাম মো. রাসেল সরদার। তাদের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি সদর থানার সাহাবাঙ্গল গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ছিলেন।

ঘটনাটি নিশ্চিত করে সূত্রাপুর থানার অপারেশন ইনচার্জ মতিউর রহমান জানান, ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ১৫ তলায় শ্রমিকদের মধ্যে পূর্ব থেকেই কোনো বিরোধ থাকতে পারে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। পূর্বশত্রুতার জেরে ওই যুবককে সিজার (কাপড় কাটার কাঁচি) দিয়ে আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাবেক যুবদল নেতা সোবহান এবং সাবেক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কিরণ—উভয়েই সুমন ভুঁইয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত এবং তারা দুজনই কোতোয়ালি থানা যুবদলের পদপ্রত্যাশী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মূলত চাঁদাবাজির টাকার ভাগাভাগি নিয়েই শনিবার রাতে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, এই সংঘর্ষে কিরণ গ্রুপের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর নিহতের স্বজনসহ প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন বিক্ষুব্ধ লোক মিটফোর্ড হাসপাতালে ভিড় জমান এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মো. সুমন ভুঁইয়া দাবি করেন, সংঘর্ষে জড়িতরা তার সরাসরি সমর্থক নন, তবে মাঝেমধ্যে দলের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে তাদের দেখা যেত। তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ আছেন এবং বিস্তারিত খবর জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—জানতে চাইলে সূত্রাপুর থানার অপারেশন ইনচার্জ মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুরো ঘটনাটি নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।