দেশে সম্ভাব্য ভূমিকম্প মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা, একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সেল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের ভূমিকম্পবিষয়ক প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত ও তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের একটি ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দ্রুত বাকি ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের তথ্য এতে যুক্ত করা হবে। দুর্যোগকালীন কার্যক্রম ও সার্বিক প্রস্তুতি সমন্বয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হবে। ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি সাড়া এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ঢাকা শহরে 'হিউম্যানিটারিয়ান স্ট্যাগিং এরিয়া (এইচএসএ)' বা দুর্যোগের সময় দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ লজিস্টিক হাব ও গুদামজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগকালীন সচেতনতা তৈরিতে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।