শিরোনাম
হতদরিদ্রদের টাকা চেয়ারম্যানের পেটে,প্রসাসন নীরব! – প্রথম বেলা

হতদরিদ্রদের টাকা চেয়ারম্যানের পেটে,প্রসাসন নীরব!

জিহাদ হক্কনী: হতদরিদ্রদের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে গাইবান্ধার কুপতলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অথচ স্থানীয় প্রসাসন এবিষয়ে রহস্যজনক কারনে চুপচাপ রয়েছে। প্রশাসনের এমন ভুমিকায় সুধিমহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সম্প্রতি ঘুষ নেয়ার কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। তাছাড়া ঘুষের বিনিময়ে সরকারি সেবা বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখেও পরেন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক। ২০১৭ সালে ঘুষ নিয়ে সরকারি প্রকল্পের নীতিমালা ভেঙে কুপতলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের স্কুলের বাজার ও ডাকুয়ারকুটি গ্রামের মৃত বাচ্চুর স্ত্রী আনোয়ারা বেওয়া, মৃত রফিকের স্ত্রী লাখি বেওয়া, মৃত ওয়াহেদের স্ত্রী করিমন বেওয়া ও বজলার রহমানের স্ত্রী ছবি বেগম নামের ওই চার বয়স্ক হত-দরিদ্র নারীদের কাছে থেকে সরকারি সেবার বিনিময়ে উল্লেখিত পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক।
ভুক্তভোগী ওই চার নারী অভিযোগ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, চেয়ারম্যান ঘর, মাটি কাটার কাজ এবং মাতৃভাতার কার্ড দেয়ার নামে ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমাদের কাছে থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী চার নারীর পক্ষে বিধবা নারী লাকি বেগম জানান, “প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় ঘর পাওয়ার আশায় বাড়ির হাঁস, মুরগী, গরু ছাগল বিক্রি করি রাজ্জাক চেয়ারম্যানক দিচি। মাটি কাটার কাম এবং মাতৃভাতার জন্য হামরা সুদের উপর টেকা নিয়্যা দিচি। টেকা চাবার গেলে আজ নয়, কাল করতে করতে চার বছর হয়া গেল; গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ১৮ তারিখে ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও ( স্মারক নং -৯৬১) সেই অভিযোগের আর কোন খবর নাই। পরে মঙ্গলবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়্যা লিখিত আবেদনসহ অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলি ধরি”। ‘ এই দুনিয়াত হামার গরীবের কান্দন কেউ দেখেনা’ বলে এই নারী কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রসুণ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি এবং ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত করতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে খুব দ্রুতই ভুক্তভোগীদের ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জাকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে গিয়েছিলাম। কিন্ত তাকে পরিষদে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া এর আগেও তাকে বিভিন্ন মিটিং ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে বলা হলেও তাকে নিয়মিত পাওয়া যায়না। তবে এ ঘটনার দ্রুতই নিস্পত্তি করা হবে বলে তিনি জানান।

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশ সফর, খরচ ৫ কোটি

Read Next

মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, পরে মিলল লাশ

%d bloggers like this: