শিরোনাম
মসজিদে বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ২২ – প্রথম বেলা

মসজিদে বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ২২

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জন হয়েছে। শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের তল্লা এলাকার মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। রোববার সকাল পর্যন্ত সেখানে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন আছেন ১৫ জন। তাদের কেউই শঙ্কামুক্ত নয়।

এ ঘটনায় শনিবার পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। এতে মসজিদ কমিটি, বিদ্যুৎ এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। এদিকে, মসজিদে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না কেউ। ধর্মপ্রাণ মানুষ নামাজ পড়তে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে পাড়ি জমালেন পরপারে।

অভিযোগ উঠেছে, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে মসজিদের নিচের গ্যাসের পাইপলাইনে সমস্যার কথা জানানোর পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ পরিস্থিতিতে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, ডিপিডিসি ও তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে এসব কমিটি গঠন করা হয়।

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের তল্লার বাসিন্দা নূর উদ্দিনের বড় ছেলে সাব্বির (২১) ও মেজো ছেলে তোলারাম ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র জোবায়ের (১৮), পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও তার ছেলে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাসিন্দা জুনায়েদ হোসেন (১৬), মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হাটবুকদিয়া গ্রামের কুদ্দুস বেপারী (৭২), চাঁদপুর সদর উপজেলার করিম মিজির ছেলে মোস্তফা কামাল (৩৪), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পোশাক শ্রমিক জুলহাস ফরাজীর ছেলে জুবায়ের ফরাজী (৭), পটুয়াখালীর গলাচিপার আবদুল খালেক হাওলাদারের ছেলে পোশাক শ্রমিক মো. রাশেদ (৩০), পশ্চিম তল্লার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির (৭২), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালী গ্রামের জামাল আবেদিন (৪০), পোশাক শ্রমিক ইব্রাহিম বিশ্বাস (৪৩), নারায়ণগঞ্জ কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী রিফাত (১৮), চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইন উদ্দিন (১২), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মো. জয়নাল (৩৮), লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুকপলাশী গ্রামের মেহের আলীর ছেলে পোশাক শ্রমিক মো. নয়ন (২৭), ফতুল্লার ওয়ার্কশপের শ্রমিক কাঞ্চন হাওলাদার (৫০), শ্রমিক মো. রাসেল (৩৪), বাহার উদ্দিন (৫৫), মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক (৬০), স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ নাদিম (৪৫), নিজাম ওরফে মিজান (৪০) ও আবদুল মালেক (৬২)।

চিকিৎসাধীন ১৫ জনের অবস্থাও সংকটাপন্ন। বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, দগ্ধ বেশিরভাগের অবস্থাই গুরুতর। তাদের শরীরের ৯৫ ভাগ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। প্রায় সবার শ্বাসনালি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কাউকেই শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের চিকিৎসা চলছে।

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

গাজীপুরের পূবাইলে ডিজিটাল করতে গিয়ে অপপ্রচারের ফাঁদে কাউন্সিলর শিরিষ!

Read Next

প্রিয় নবীর (সা:) ব্যঙ্গাত্মক ও কুরুচিপূর্ণ কার্টুন ছাপিয়ে সারা বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল।

%d bloggers like this: