শিরোনাম
ফেরার লড়াই শুরু সাকিবের – প্রথম বেলা

ফেরার লড়াই শুরু সাকিবের

মোঃ মামুন রশীদ ॥ জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে দেখার জন্য কাউন্ট-ডাউন এবার ভালভাবেই শুরু করা যায়। কারণ তিনি মাঠে নেমে পড়েছেন- শুরু করে দিয়েছেন নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে অনুশীলন। আর মাত্র ৫৩ দিন, তারপরই যে কোন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলতে বাধা থাকবে না সাকিব আল হাসানের। জুয়াড়ির কাছ থেকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব একাধিকবার পেয়েও তা গোপন করে খেলা থেকে ১ বছরের যে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন তার শেষদিন ২৮ অক্টোবর। ২৯ অক্টোবর নামতে পারবেন জাতীয় দলের জার্সিতে কিংবা যে কোন দলের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশ দল যে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে তার দ্বিতীয় টেস্টেই সাকিবকে খেলাতে চায় তারা। কিন্তু সে জন্য তো নিজের ফিটনেস ফিরে পেতে হবে, ব্যাট-বল থেকে দীর্ঘ সময়ের বিরতিতে যে জড়তা এসেছে তা কাটিয়ে উঠতে হবে। তাই পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে এবং অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার সকাল থেকেই বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) শারীরিক কসরত শুরু করেছেন নিজের গুরু মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অধীনে।

একাধারে তিন ফরমেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (ওয়ানডে, টেস্ট ও টি২০) বিশ্বের ১ নম্বর অলরাউন্ডার হিসেবে দীর্ঘ সময় নিজেকে আসীন রেখেছিলেন। যেখান থেকে এই মেধা বের হয়েছিল সেই সূতিকাগার বিকেএসপি। ক্যারিয়ারের পটপরিবর্তন ঘটেছে সম্প্রতি আইসিসির থেকে নিষেধাজ্ঞা পেয়ে। নিজেকে আবার পুরনোরূপে, পুরনো ছন্দে ফিরিয়ে আনা অনেক কঠিন। ১০ মাসেরও বেশি সময় ক্রিকেটের সংস্পর্শ থেকে মুক্ত সাকিব আবার শীর্ষস্থানীয় অলরাউন্ডার হিসেবে হুট করেই নিজেকে মেলে ধরবেন সেই ভাবনাটাই অবান্তর। কারণ নিবিড় অনুশীলন, প্রচেষ্টা, কষ্ট, শ্রমের সঙ্গে মেধা থাকলেই শুধু সেরা হওয়া যায়। কিন্তু এই দীর্ঘ সময় পরও সাকিবের মাঝে তার ক্রিকেট মেধাটাই আছে, বাকিগুলো করা সম্ভব হয়নি নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসায়। কিন্তু উদ্যম হারাননি তিনি। কয়েক মাস আগেই তিনি জানিয়েছিলেন ভক্তদের জন্য আরও ৫ বছর বাংলাদেশের জার্সিতে খেলা চালিয়ে যেতে চান এবং দেশের সাফল্যে অবদান রাখতে চান। সেটা যে একটুও মিথ্যা নয় তা বোঝা গিয়েছিল এক মাস আগেই। তখন থেকেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে থেকেই অনুশীলনে ফেরার তোরজোড় শুরু করে দেন। নিষেধাজ্ঞা শেষের সঙ্গে সঙ্গেই যেন ব্যাট-বল নিয়ে দেশের জার্সি গায়ে নামতে পারেন তাই পরিকল্পনা করেছেন। ত্যাগ-তিতিক্ষা ও পরিশ্রমের সবুজ মঞ্চ বিকেএসপিতে ছাড়া উপায় ছিল না। কারণ নিষেধাজ্ঞার সময় বিসিবি কোন ধরনের অনুশীলন সুযোগ-সুবিধা তাকে দিতে পারবে না। ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অন্য কোন কার্যক্রমে অংশ নিতে বা কথা বলতে পারবেন না। তবে তরুণদের সচেতনতা বাড়াতে বিকেএসপিতেই তিনি ভবিষ্যত ক্রিকেটারদের নিয়ে সেমিনারে নিজের ভুলের বিষয়টি জানিয়ে তাদের সতর্ক করতে পারবেন। এই সেমিনার, প্রচারাভিযানগুলো আইসিসিরই নির্দেশনায় হবে। কিন্তু অনুশীলন গুরু সালাউদ্দিন ও বিকেএসপির স্বনামধন্য কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিমের পরামর্শে নিভৃতেই সারতে হবে নিজের ব্যবস্থাপনায়। তাদের অধীনে আবার ‘বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব’ হয়ে ওঠার লড়াই শুরু করেছেন শনিবার।

শুক্রবার বিকেলেই বিকেএসপি পৌঁছে সাকিব ভিআইপি রেস্ট হাউস মধুমতিতে উঠেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫ মাসেরও বেশি সময় পর বুধবার রাতে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে ফিরেছিলেন। বৃহস্পতিবার দেশে এসেও টেস্ট করিয়ে শুক্রবার নেগেটিভ সনদ পেয়েই আর বিলম্ব করেননি। অবশেষে শনিবার শুরু হলো ক্রিকেটে ফেরার লড়াই। প্রথম কয়েকদিন স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় ফিটনেস ফিরে পাওয়ার অনুশীলন চালাবেন তিনি। এ কারণে প্রথম সপ্তাহের অনুশীলন পরিকল্পনা পুরোটাই করে দেবেন কোচ সালাউদ্দিন। এরপর স্কিল অনুশীলনও শুরু করবেন ব্যাটিং-বোলিংয়ের জড়তা কাটাতে।

তবে প্রথম আন্তর্জাতিক খেলায় নামার আগে ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ পাবেন না। কারণ শ্রীলঙ্কায় প্রথম টেস্ট ২৩ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৭ তারিখেই শেষ হবে। তার পরদিন সাকিবের নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন। অর্থাৎ দ্বিতীয় টেস্ট খেলার জন্য ২৯ অক্টোবরই শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে তাকে। টিম ম্যানেজমেন্ট সবদিক বিবেচনা করে সাকিবকে যদি টেস্ট খেলার জন্য সবদিক থেকে উপযুক্ত মনে করে তবে দ্বিতীয় টেস্টেই দেখা যেতে পারে তাকে। বিসিবিও এমনটাই চাইছে। এখন শুধু ১, ২, ৩… করে নিষেধাজ্ঞার বাকি দিনগুলো কমার অপেক্ষা।

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

মাটি খুঁড়তেই উঠে এলো হাজার বছর আগে লুকিয়ে রাখা সোনা!

Read Next

ভুয়া সংবাদে চটেছেন এ্যানি

%d bloggers like this: