শিরোনাম
দেশের পোশাক শিল্প জেগে উঠছে – প্রথম বেলা

দেশের পোশাক শিল্প জেগে উঠছে

ভয়ংকর করোনাভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত বিশ্ব। এক প্রকার স্থবির বিশ্ব অর্থনীতি। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। গত মার্চে দেশে যখন প্রথম করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। তার পর সংক্রমণ রোধে সরকারি ছুটির পাশাপাশি প্রায় সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা মন্থর হয়ে যায়। বিশেষ করে, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাক শিল্প মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যায়।

garments sector bangladesh

আবার জেগে উঠছে দেশের গার্মেন্টস খাত

বাতিল হতে থাকে একের পর এক অর্ডার। ফলে দেশের বিকাশমান এই শিল্পের সামনে দেখা দেয় বড় ধরনের এক অনিশ্চয়তা। কিন্তু ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি চলার পর একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া আস্তে আস্তে সবকিছু স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয় সরকার। ফলে অর্থনীতিতে কিছুটা গতি সঞ্চার হয়। অবশ্য তার অনেক আগেই পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেওয়া হয়।

এতে আস্তে আস্তে ধাক্কা সামলে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে পোশাক খাত। আবার ফিরতে থাকন ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতারা। আসতে আসতে থাকে নতুন নতুন অর্ডারও। ফলে পোশাক রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যায়। ফলে করোনার কারণে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতটি যে হোঁচট খায়, সেটা বর্তমানে অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে গার্মেন্টস শিল্প।

garments sector bangladesh inner

আবার জেগে উঠছে দেশের গার্মেন্টস খাত

মার্কিন গণমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসের রপ্তানির চিত্র পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদেরকে অনেকটা আশাবাদী করে তুলেছে। কারণ এ মাসটিতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৩৬ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলারের। করোনাকালে অন্যান্য পোশাকের চাহিদা কমলেও রপ্তানির তালিকায় যুক্ত হয়েছে মাস্ক ও পিপিই গাউন। করোনার মহামারির কারণে বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকায় এসব স্বাস্থ্য সামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

দৈনিক প্রথম বেলাকে বলা  হয়েছে, করোনাভাইরাস যখন ইউরোপ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তখন ওই অঞ্চলের ক্রেতারা পোশাক রপ্তানির অর্ডার বাতিল করতে থাকেন। আর বাংলাদেশে তখন চলছিল অঘোষিত লকডাউন। সর্বত্র তখন ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রায় তিন শ পোশাক কারখানা। আবার বেশ কিছু কারখানায় শুরু হয় শ্রমিক ছাঁটাই।

তবে মাস খানেক বন্ধ থাকার পর আবারো ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া হয় পোশাক কারখানাগুলো। যদিও এ নিয়ে নানা সমালোচনা চলে। তাছাড়া শিল্প মালিকদের সামনে বিরাজমান ঘোর অন্ধকার তখনো কাটেনি। এ অবস্থায় এপ্রিল মাসে মাত্র ৩৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। তবে এর পর থেকেই পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। আস্তে আস্তে পোশাক খাত তার পূর্বের অবস্থায় ফিরছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত জুন মাসে শেষ হওয়া ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ২ হাজার ৭৯৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। যদিও তা আগের বছরের তুলনায় ৬১৮ কোটি ডলার কম। তবে নতুন অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রপ্তানির পরিমাণ আরো বেড়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Read Previous

অপেক্ষায় ৬শ ট্রাকপারের , পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় নাব্যতা সংকট

Read Next

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ করোনাকালে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দ্রুত নির্মাণের

%d bloggers like this: