শিরোনাম
নিজেকে বাঁচাতে পারলেন না ওসি প্রদীপ – প্রথম বেলা

নিজেকে বাঁচাতে পারলেন না ওসি প্রদীপ

সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র‌্যাব।

যদিও  চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) শ্যামল কুমার নাথ জানিয়েছেন, প্রদীপ কুমার চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি সিএমপিকে ফোন করে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করলে সিএমপি তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় কক্সবাজারে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

র‌্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার এলাকা থেকে পুলিশ টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস গ্রেফতার করেছে বলে শুনেছি। যেহেতু তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত সংস্থা আমরা (র‌্যাব), তাই ধারণা করা হচ্ছে তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গত বুধবার রাত ১০টায় টেকনাফ থানায় আদালতের নির্দেশে মেজর সিনহার বোনের করা হত্যা মামলাটি নথিভুক্ত হয়। ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩, টেকনাফের বিজ্ঞ বিচারক তামান্না ফারহার আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া। পরে আদালত সেটি টেকনাফ থানাকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। এছাড়া মামলার তদন্তভার দেয়া হয় র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ককে।

গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সিনহা নিহত হওয়ার সময় ওই আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ মামলাটি আমলে নিয়ে সেটি টেকনাফ থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করতে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে তিনি হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য কক্সবাজারের র‌্যাব-১৫-কে দায়িত্ব দিয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।

মামলার এজাহারে সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস অভিযোগ করেন, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের নির্দেশে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী তাঁর ভাইকে গুলি করে হত্যা করেন। বাদী উল্লেখ করেন যে ঘটনার কিছুক্ষণ পর ওসি প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি এসেই তখনো জীবিত থাকা সিনহাকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং তাঁর শরীরে লাথি মারেন। মৃত্যু নিশ্চিত হলে একটি ‘ছারপোকা গাড়িতে’ তুলে সিনহাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

থাপ্পড় দিয়ে ওসি রয়েছেন বহাল তবিয়তে, সেই এএসআইকে প্রত্যাহার!

Read Next

ডা. সাবরিনাসহ ৮ জনের চার্জ শুনানি আজ

%d bloggers like this: