সাহেদের অবৈধ সম্পদ ও প্রতারণা অনুসন্ধানে বিভিন্ন সংস্থা

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের বহুমুখী প্রতারণা অনুসন্ধানের পাশাপাশি তার অবৈধ সম্পদের খোঁজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া কোটি কোটি টাকা কোথায় গেল, তা জানতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ছাড়াও র‌্যাব, সিআইডি, মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশসহ একাধিক সংস্থা কাজ করছে। সাহেদের সঙ্গে আর কারা জড়িত-তাদেরও খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

ভয়ংকর প্রতারক সাহেদের বিষয়ে তথ্য পেতে হটলাইন চালু করেছে র‌্যাব। এদিকে, শুক্রবার আশুলিয়া থেকে সাহেদের ব্যবহৃত গাড়ি ও ৪৮টি ব্যাংক চেকসহ গিয়াস উদ্দিন জালাল (৬১) ও মাহমুদুল হাসানকে (৪০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সাহেদকে রিমান্ডে নিয়ে তার নানা ধরনের প্রতারণার বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে প্রতারণার কথা সাহেদ স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আবদুল বাতেন যুগান্তরকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন সাহেদ।

আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত অব্যাহত রেখেছি। ভুক্তভোগীদেরও অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। সব অভিযোগের বিষয়েই অনুসন্ধান চলছে। সাহেদের প্রতারণা অনুসন্ধান করছে র‌্যাব। সাহেদের বিষয়ে তথ্য পেতে শুক্রবার র‌্যাবের তদন্ত উইং হটলাইন চালু করেছে। এ নম্বরে যোগাযোগ করে সাহেদের বিষয়ে যে কোনো তথ্য, অভিযোগ ও আইনি সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

পরীক্ষা ছাড়াই করোনাভাইরাসের ভুয়া সনদ প্রদান ও চিকিৎসার নামে প্রতারণা মামলায় বৃহস্পতিবার সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজকে ১০ দিন এবং সাহেদের সহযোগী তরিকুল ইসলামের ফের সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

র‌্যাবের মুখপাত্র এবং আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ প্রথম বেলাকে বলেন, সাহেদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানসহ সব অভিযোগেরই অনুসন্ধান চলছে। আমাদের কাছে এখনও ভুক্তভোগীরা আসছেন। তাদের সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম প্রথম বেলাকে বলেন, ‘সাহেদ এত এত প্রতারণা করেছে-বলে শেষ করা যাবে না। এর মাধ্যমে সে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমার ধারণা, এ টাকা সে বিদেশে পাচার করেছে। নইলে এত টাকা কোথায় যাবে? মানি লন্ডারিং মামলায় সিআইডি হয়তো তার বিরুদ্ধে মামলা করবে। পাশাপাশি আমরাও খোঁজ নিচ্ছি। কারণ, করোনাভাইরাসের ভুয়া রিপোর্ট, চেক জালিয়াতি, অননুমোদিত টেস্টিং কিট মজুদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ডায়ালিসিস মেশিন নিয়ে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা এবং বিভিন্ন সাপ্লাই নিয়ে টাকা না দিয়ে কোটি কোটি টাকা সাহেদ কামিয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল এমপি হওয়া। এ টাকা কোথায় আছে-সেই অনুসন্ধান চলছে।’

Read Previous

দ্বিতীয় দফার রিমান্ডে ডা. সাবরিনা

Read Next

বাংলার অপ্রতিদ্বন্দী নেত্রী শেখ হাসিনাকে বন্দীকরে সেদিন গনতন্ত্রকে বন্দী করেছিলো তারা-আলহাজ্ব মোঃ শাহ্ আলম

%d bloggers like this: