দৃষ্টি সীমানা পেরিয়ে যেতে চান রাকিবুল

নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তাড়না কতজন অনুভব করেন? আজ একশ তো কাল দুইশ! এভাবে কেউ ভাবেন? চ্যাম্পিয়নরা হয়তো এভাবেই ভাবেন।

নয়তো রাকিবুল হাসান কি করে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের সেরা স্পিন অলরাউন্ডার হতে চাই।’ পাল্টা প্রশ্ন উঠে আসে, শুধু বাংলাদেশ কেন? কেন বিশ্বসেরা স্পিন অলরাউন্ডার নয়? মুঠোফোনের অপরপ্রান্ত থেকে ঝটপট উত্তরটাও আসে আত্মবিশ্বাসী কন্ঠে, ‘সেই চেষ্টা আমার থাকবে। আমার আইডল সাকিব ভাই (সাকিব আল হাসান)। আমি চেষ্টা করবো শুরুতে তাঁর মতোই হতে। এজন্য আমাকে পরিশ্রম করতে হবে। আমি প্রচুর খাটতে পারি। আমি জানি আমি পারবো।’

বাঁহাতি স্পিন বরাবরই বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রধানতম অস্ত্র। মোহাম্মদ রফিক, আব্দুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসানের পর একটানা খুব কম বাঁহাতি স্পিনার জাতীয় দলের প্রয়োজন মেটাতে পেরেছেন। আরাফাত সানী, ইলিয়াস সানী কিংবা মোশাররফ হোসেনর ‍রুবেলরা জাতীয় দলে এসে হারিয়ে গেছেন খুব অল্পতে। নিষেধাজ্ঞার আগ পর্যন্ত সাকিবের সঙ্গী খোঁজা লেগেছিল ‘হারিকেন’ দিয়ে। তাইতো উপায় না পেয়ে টেস্ট স্পেশালিস্ট তাইজুলকে দিয়ে রঙিন পোশাকে কাজ চালানো শুরু করেন নির্বাচকরা। যদিও তাইজুল ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে নিজের অভিষেকে হ্যাটট্রিক ও চার উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান। গিয়েছিলেন বিশ্বকাপেও। পরবর্তীতে তাঁর কপালেও খুব একটা সুযোগ আসেনি।

১৮ ছোঁয়ার অপেক্ষায় থাকা রাকিবুলের মস্তিস্কে তালগোল পাকানো বাস্তবতা ঢুকে না! বাঁহাতি স্পিনার শুধু বোঝেন, ‘আমি জাতীয় দলে তৈরি হয়ে আসতে চাই। এজন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। আমি চাই জাতীয় দলে নিজের জায়গা অর্জন করতে। একবার সুযোগ পেলে যেন সেই জায়গা পাকাপাকি করতে পারি সেই পরিকল্পনাই থাকবে।’

নিষেধাজ্ঞায় থাকা সাকিব আল হাসান মাঠে ফিরতে পারবেন ২৯ অক্টোবরের পর। সাকিবকে দেখে ক্রিকেটার হতে চাওয়া রাকিবুলের একটাই ইচ্ছে, ‘আমি জাতীয় দলের জার্সিতে সাকিব ভাইয়ের সাথে খেলতে চাই। আমি নিশ্চিত উনি আরও কয়েকটা বছর খেলতে পারবেন। এ সময়ে আমি জাতীয় দলে আসতে চাই। উনার সঙ্গে একই দলে খেলতে পারলে আমার অনেক স্বপ্ন পূরণ হবে।’

যুব বিশ্বকাপে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২ উইকেট নিয়েছেন রাকিবুল। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ৫ উইকেটের সুখস্মৃতি আছে। পেয়েছেন হ্যাটট্রিকও। তার স্পিন ‘বিষে ভরা’। তবে বড় মঞ্চে খেলার জন্য চাই আরও ধার। সেজন্য জাতীয় দলের স্পিন পরামর্শক ড্যানিয়েল ভেট্টরির শরণাপন্ন হতে চান রাকিবুল।

‘ভেট্টরি কোচ (পরামর্শক) হওয়ার পর আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। আমি উনাকে প্রচন্ড পছন্দ করি। সিনিয়র ভাইদের থেকে শুনেছি উনি খুব ভালো পরামর্শ ও কৌশল দেন। আমি উনার কাছ থেকে শিখতে মুখিয়ে আছি। উনার মতো কিংবদন্তির কাছ থেকে শিখে যদি নিজের বোলিংয়ে সেটা ব্যবহার করতে পারি  সেটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া হবে।’

যুব বিশ্বকাপজয়ী এই স্পিন অলরাউন্ডারের স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া। দৃষ্টি সীমানা পেরিয়ে যেতে চান তিনি। শুধু জাতীয় দল নয় নিজেকে শাণিত করে রাকিবুল বিশ্ব ক্রিকেটে রাখতে চান নিজের ছাপ। বাংলাদেশ কি পেতে যাচ্ছে আরেকজন ‘সাকিব’? নাকি সাকিবের চেয়েও বড় কিছু? উত্তরটা সময়ের কাছেই তোলা থাক।

Read Previous

সংক্রমণ বাড়ছে ভারতে, প্রতিদিন আক্রান্ত হাজারের ওপর

Read Next

লেভানদোভস্কির গোলে জার্মান কাপের ফাইনালে বায়ার্ন

%d bloggers like this: