শিরোনাম
ভন্ড কবিরাজ মোজাম্মেল হকের প্রতারণা থেমে নেই বাইমাইলে ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে ভাড়া না দিয়ে মার্কেট মালিককে হয়রানির অভিযোগ হারলেই শেষ হবে-রশিদ-ওয়ার্নারদের আইপিএল এবার সত্যিই বিয়ে করলেন নেহা কক্কর, বিষয়টি আর গুজব নয় অপরাধী যেই হোক কেন আইনের মুখোমুখি হতেই হবে বললেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লম্পট স্বামীর বিরুদ্ধে কন্যাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করলো স্ত্রী, লম্পট স্বামী গ্রেফতার রিফাত হত্যার রায়কে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের বাড়তি নিরাপত্তা পরীক্ষামূলক ভাবে বাংলাদেশের রেল ইঞ্জিন ভারতে পাঠাবে আজ কাউন্সিলর পদ চলে যেতে পারে ইরফান সেলিম এর বাংলাদেশে দরিদ্রসীমার নিচে মানুষের সংখ্যা কমলেও, গৃহহীন মানুষের সংখ্যা এখন ও কমেনি
টঙ্গীতে রাসায়নিক গুদাম প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর ও শুভ উদ্বোধন “বস্তিবাসীর দাবী নিরাপদ আবাসন” – প্রথম বেলা

টঙ্গীতে রাসায়নিক গুদাম প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর ও শুভ উদ্বোধন “বস্তিবাসীর দাবী নিরাপদ আবাসন”

শেখ রাজীব হাসান, টঙ্গীঃ গাজীপুরের টঙ্গীর কাঠালদিয়া এলাকায় রাসায়নিক গুদাম প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর ও শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল ১৪ই মার্চ শনিবার সকাল ১০ ঘটিকার সময় কাঠালদিয়া মাঠে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি ( মন্ত্রী, বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়)।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি ( প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয় ), আলহাজ্ব জাহিদ আহসান রাসেল এমপি ( প্রতিমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ), মোঃ হুমায়ূন কবির (সচিব, বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়), মোঃ রইছ উদ্দিন (চেয়ারম্যান, বিএসইসি), মোঃ মনিরুজ্জামান খান ( প্রকল্প পরিচালক)। এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, প্রথমেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রাক্কালে আমি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের অবিসাংবাদিত নায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বাঙ্গালী জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির গৌরবজ্জল ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর সীমাহীন আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা বাঙ্গালী জাতি চিরকাল বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্বরণ করবে।

তিনি বলেন, আমি গভীর বেদনার সাথে স্বরণ করছি, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বর্বর হত্যাকান্ডের শিকার বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সকল আন্দোলন ও সংগ্রামের সহযোদ্ধা শেখ কামাল, শেখ রাসেল, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ মজলুল হক মানিকসহ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকল সদস্যকে। একই সাথে শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করতে চাই শহীদ জাতীয় চার নেতাকে। স্বশ্রদ্ধ চিত্তে স্বরণ করছি, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী ৩০ লাখ বীর বাঙ্গালী এবং দুই লাখ নির্যাতিতা মা বোনদের। শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ১৭ই ২০২০ থেকে ১৭ই মার্চ ২০২১ পর্যন্ত যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ পালন করা হবে। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের সরকার শোক সমাগম এড়িয়ে মুজিববর্ষের কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ শিল্প মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের (বিএসইসি) মাধ্যমে রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো।

করোনা ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট প্রতিকুলতা স্বত্বেও এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় আমি সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। রাজধানীর পুরান ঢাকায় প্রায়ই ক্যামিকেল থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় নিরীহ মানুষসহ ব্যাবসায়ীরা প্রাণ হারাচ্ছে। এটি কোন ভাবেই কারো কাম্য নয়। এসব দাহ্য ক্যামিকেল গুদাম স্থানান্তরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে। চলতি বছরের ৯ই জানুয়ারি আমি এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছি। আজ টঙ্গীর কাঠালদিয়ায় দ্বিতীয় অস্থায়ী রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হলো।

শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সামসাময়িক ভাবে রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য মুন্সীগঞ্জে বিসিক ক্যামিকেল শিল্পনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে। এ শিল্পনগরী স্থাপনের পরপরই এই অস্থায়ী গুদাম থেকে রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যাবসায়ীদেরকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে মুন্সীগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন কাথালদিয়ার এই অস্থায়ী গুদাম বিএসইসি’র অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টীল ওয়ার্কস লিমিটেড ব্যাবহার করবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পুরাতন ঢাকার জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এর নির্মাণ কাজ সুরু হওয়ায় ঢাকাবাসী ও ব্যাবসায়ীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পুরণ হলো বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব সরকার। শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে আমরা জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। সরকারের এ নিতীর আলোকে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে গাজীপুর জেলার টঙ্গীর কাঠালদিয়া মৌজায় বিএসইসি’র নিজস্ব ৬.০০ একর জায়গার উপর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যায় ৯১ কোটি ৭৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে পরিকল্পনা কমিশন বিশেষ থোক বরাদ্দ থেকে প্রকল্পটির অনুকূলে ১৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এটি একটি সম্পূর্ণ সেবামূলক, অলাভজনক ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই অস্থায়ী রাসায়নিক গুদাম প্রকল্প ডিসেম্বর ২০২০ এর মধ্যে শেষ হবে।

শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, প্রকল্পের আওতায় ৫৩টি অস্থায়ী গুদাম, ভূমি উন্নয়ন/মাটি ভরাট, ১ লাখ গ্যালন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ওভারহেড ও একটি আন্ডারগ্রাউন্ড পানির ট্যাংক নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাবষ্টেশন, ট্রান্সফরমার, জেনারেটর, ফায়ার হাইদ্রান্টসহ স্বয়ংক্রিয় অগ্নি নির্বাপক ব্যাবস্থা স্থাপন সংযোক রাস্তা, আরসিসি ড্রেন, ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ আনুসাঙ্গিক কাজ করা হবে। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীগণ দ্বারা ডিজাইনকৃত স্থাপনাটি হবে উন্নত বিশ্বের ন্যায় সর্বাধুনিক সুবিধাসম্বলিত ও সর্বাধিক নিরাপদ। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় পানি সরবরাহ , অফিস ভবন, আনসার বেরাক ও নিরাপত্তা চৌকি নির্মাণ করা হবে। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গৃহীত শিল্প মন্ত্রানালয়ের একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প। সর্বাধিক গুনগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য সর্বাধিক স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বের সাথে এ প্রকল্প সমাপ্ত করার জন্য আমি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএসইসি’র প্রতি নির্দেশনা দিচ্ছি। একই সাথে এ প্রকল্প যাতে দ্রুততার সাথে বাস্তবায়িত হয় সে লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সহযোদ্ধা হিসেবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সহায়তায়হাত বাড়িয়ে দিতে আমি আহবান করছি। বক্তব্যের শেষে তিনি রাসায়নিক গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের কাজের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন।

সবশেষে সাংবাদিকরা কাঠালদিয়া বস্তিতে বসবাসকারি অসহায়, দরিদ্র জনগণের আবাসনের ব্যাপারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বস্তিতে যারা দূর দুরান্ত থেকে এসে বসবাস করছেন তাদেরকে যেখান থেকে এসেছেন সেই এলাকায় ফিরে যাওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন মুজিবশত বর্ষে এদেশের কেউ গৃহহীন থাকবে না। সবাই নিজ নিজ এলাকায় চলে যান। এসময় বস্তিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজমান ছিল। বস্তিবাসীর দাবী তাদের আবাসনের ব্যাবস্থা না করে যেন তাদের এখান থেকে উচ্ছেদ না করা হয়।

Read Previous

ইতালিফেরত ৫৯ জনকে গাজীপুরে স্থানান্তর

Read Next

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ার ভয়ারচরে অভিযান “গ্রেফতার ২”

%d bloggers like this: