শিরোনাম
বাংলাদেশে দরিদ্রসীমার নিচে মানুষের সংখ্যা কমলেও, গৃহহীন মানুষের সংখ্যা এখন ও কমেনি পাঁচ ক্রিকেটারকে ‘স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড’ দিলেন পাপন নামাজ পড়তে সমস্যা হওয়ার কারনে অভিনয় ছাড়লেন নায়িকা মুক্তি চঞ্চল-শাওনের ভাইরাল ‘যুবতী রাধে’ গান নিয়ে বেধেছে বিতর্ক হয়েছেন মাস্ক না পরলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা পাওয়া যাবে না বলে নির্দশনা দিয়েছেন সরকার ১ নভেম্বর থেকে মাধ্যমিকের সিলেবাস শুরু হতে যাচ্ছে, ৮ নির্দেশনা জারি সাংবাদিকদের মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক এর ১৪৭তম জন্মবার্ষিকী শহরের আদলে হবে গ্রাম, একটি মাস্টারপ্লান গ্রহণ করেছে স্থানীয় সরকার এমএলএম ব্যবসার মাধ্যমে অসহায় মানুষদের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে “এসএম ট্রেডিং”
পুলিশ ও মাদক কারবারীরা আমার উপর জুলুম করেছে আমি বিচার চাই সন্তানকে নেশার জগত থেকে ফেরাতে গিয়ে উল্টো মাদকের মামলায় আসামী হলেন বাবা! – প্রথম বেলা

পুলিশ ও মাদক কারবারীরা আমার উপর জুলুম করেছে আমি বিচার চাই সন্তানকে নেশার জগত থেকে ফেরাতে গিয়ে উল্টো মাদকের মামলায় আসামী হলেন বাবা!

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ মাদকের আগ্রাসন থেকে দুই সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে উল্টো মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মিথ্যা মামলায় জেল খাটলেন হত দরিদ্র ইসমাইল হোসেন (৬০)। শুধু এখানেই শেষ নয়; একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তার জামিনের ব্যবস্থা করা হয়। সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়। মাদকের মামলায় জামিন পেলেও বর্তমানে এনজিও’র মামলার প্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ইসমাইল।
ইসমাইল হোসেন গতকাল টঙ্গী প্রেসক্লাবে এসে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অঝুরে কেঁদেছেন। এসময় তার অসহায় পরিবারটিকে রক্ষার আকুতি জানান সাংবাদিকদের কাছে। পুলিশ ও মাদক কারবারীরা আমার উপর জুলুম করেছে আমি বিচার চাই বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইসমাইল জানান, নিজের দুই ছেলেকে নেশার জগত থেকে ফিরিয়ে আনার বহু চেষ্টা করেছেন। একাধিকবার মাদককাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে দিয়েছেন। এমনকি পুলিশের হাতেও তুলে দিয়েছেন। বহু চেষ্টা করেও বড় ছেলেকে মাদকের নেশা থেকে ফেরাতে পারলেও এলাকার প্রভাবশালী মাদকের গডফাদার ও পুলিশের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তার কারণে অপর সন্তানকে নেশার জগত থেকে ফেরাতে ব্যর্থ হন। এলাকার প্রভাবশালী এক গডফাদার তার ছেলেকে মাদকাসক্ত করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরো জানান, মাদকের আগ্রাসন থেকে দুই সন্তান বা নিজের পরিবারকে রক্ষার্থে এলাকার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রশাসনের কাছেও অভিযোগ দিয়েছেন। তাতেও কোন ফল হয়নি। অবশেষে নিজের বাড়ির পাশে হাতেনাতে মাদক কারবারিদের ধরে পুলিশে সোপর্দ করতে গিয়ে বিপত্তি ডেকে আনেন। গত ২৮-০৭-২০১৮ ইং তারিখ নিজের বাড়ির পাশের রাস্তায় ৫ যুবককে মাদক বিক্রি করতে দেখে তাদেরকে আটক করার চেষ্টা করেন। এসময় এলাকার প্রভাবশালী এক মাদক বিক্রেতা (সাবেক ইউপি মেম্বারের ছেলে) উল্টো ইসমাইলকে ডিবি পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে ডিবি পুলিশের এসআই এস.এম শরীফুল ইসলাম প্রভাবশালী মাদক কারবারির সাথে যোগসাজশ করে ইসমাইলকে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় একটি পাম্পের সামনে থেকে আটক দেখিয়ে ১০০পিচ ইয়াবাসহ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে জয়দেবপুর থানায় মামলা নং-২৩১(৭)১৮ দেন। এ মামলায় তার সাথে আরো দুই যুবককে ২০পিচ করে ইয়াবা টেবলেটসহ আটক দেখানো হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মুদি দোকানী ইসমাঈল জেলে আটক থাকায় তার পরিবারের সদস্যরা অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতন জীবন যাপন করেন। ইসমাইলকে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত করতে তার স্ত্রী একটি এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নেন। জেলখানায় ইসমাইলের সাথে দেখা করে তার ব্যাংকের একটি অলিখিত চেকে স্বাক্ষর এনে ওই এনজিওতে জামানত হিসেবে জমা রাখা হয়। এভাবে ঋণের টাকা খরচ করে গত বছর ২৬ নভেম্বর উচ্চ আদালত থেকে ইসমাইলের জামিনের ব্যবস্থা করা হয়। ইতিমধ্যে এনজিও’র ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তার স্ত্রী মাহমুদার বিরুদ্ধে চেক ডিসঅনার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা বের হয়। বর্তমানে গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে তিনিও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আমি অতি সাধারণ একাজন দরিদ্র মানুষ হয়েও সাধ্য অনুযায়ী সামাজিক কাজ করে থাকি। এলাকার কোন মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ পেলে দাফন-কাফনের জন্য ছুটে যাই। এ পর্যন্ত শতাধিক মুর্দার (মৃতব্যক্তির) গোসল, প্রায় ২২৬ জনের কবর খনন করেছিলেন। আমি জীবনে কখনও বিড়ি-সিগারেট খাইনি। যারা আমাকে অন্যায় ভাবে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আমি তাদের বিচার চাই এবং মামলা থেকে মুক্তি চাই।
ইসমাইলের প্রতিবেশীরা জানান, ইসমাইল কখনো মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিল না। তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে মিথ্যা মাদকের মামলা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিলে শুধু অভিভাবকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না; গোটা সমাজ ধ্বংস হবে বলেও মন্তব্য করেন ইসমাইলের প্রতিবেশীরা। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর দুলাল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইসমাইলকে কখনো মাদক ব্যবসা করতে দেখা যায়নি। তবে তার দুই ছেলে মাদকাসক্ত ছিল। বড় ছেলে ইতিমধ্যে ভাল হলেও ছোট ছেলে এখনো নেশা করে। তবে তারা মাদক ব্যবসায় জড়িত না।
এব্যাপারে গাজীপুর ডিবির সাবেক আলোচিত এসআই (বর্তমানে কক্সবাজার জেলায় কর্মরত) ও উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.এম শরীফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রায় এক বছর আগের ঘটনা তাই সঠিক মনে পড়ছে না। তবে ১০০ পিচ ইয়াবা সহজলভ্য নয়। যেহেতু ১০০ পিচসহ গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, সেহেতু সে কোন ভাল লোক না।

Read Previous

ফুলবাড়ীতে চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রতিবন্ধী নারী নির্যাতিত

Read Next

রাঙ্গুনিয়ায় অাল হুদা একতা সংঘের উদ্যোগে দরিদ্র ,অসহায় শিশুদের শীতবস্ত্র ও হাজী- কৃর্তি শিক্ষাথীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

%d bloggers like this: