শিরোনাম
ময়মনসিংহে “ট্রলি ব্যাগে পাওয়া লাশের রহস্য উদঘাটন” – প্রথম বেলা

ময়মনসিংহে “ট্রলি ব্যাগে পাওয়া লাশের রহস্য উদঘাটন”

রবিউল আউয়াল রবি, ময়মনসিংহ ব্যুরোঃ গত ২০/১০/১৯ তারিখ কোতোয়ালী থানাধীন পাটগুদাম ব্রীজের পাশে একটি ট্রলি ব্যাগ মালিকবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকার সংবাদ পেয়ে আইন শৃংখলা বাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। দীর্ঘ সময়েও ব্যাগের মালিক না পাওয়ায় ব্যাগে বিস্ফোরক দ্রব্য আছে সন্দেহে পুলিশ সুপার, ডিআইজি ময়মনসিংহ রেঞ্জ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। ঢাকা বোম্ব ডিসপোজাব ইউনিটের সহায়তায় ইং ২১/১০/১৯ তারিখ সকাল ৮টায় ট্রালি ব্যাগ খুললে হাত, পা ও মাথাবিহীন একটি অজ্ঞাত লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ সুপার কুড়িগ্রামের মাধ্যমে জানা যায় যে, একই তারিখে কুড়িগ্রাম সদর থানা এলাকায় একটি কাটা পা উদ্ধার হয়েছে ও ২২/১০/১৯ তারিখ কুড়িগ্রামে রাজাপুর থানা এলাকায় একটি ব্যাগে কাটা পা, দুইটি হাত ও ভ্যানেটি ব্যাগে মাথা পাওয়া গেছে। এতে সারা দেশে ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-১০২, তারিখ-২৫/১০/১৯ ইং ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করে তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার উপর ন্যাস্ত করা হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার্স ইনচার্জ শাহ কামাল আকন্দের সুদৃঢ় বিচক্ষণতায় মামলাটি তদন্তকালে কুড়িগ্রামে ভ্যানেটি ব্যাগে প্রাপ্ত চিরকুটের সূত্র ধরেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ইং ২৮/১০/১৯ তারিখ গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থেকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ০৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ পায় এবং এই লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়। গ্রেফতারকৃত ০৪ জন আসামীই হত্যার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা সাকিনে আসামীদের ভাড়া বাসায় হত্যাকান্ড সংঘটিত করে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় ০৫ জন সাক্ষী বিজ্ঞ আদালতে স্বাকীরোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। আজ বুধবার সকালে পুলিশ লাইনে প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এই ব্যাপক চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত বর্ণনা করেন জেলা পুলিশ সুপার শাহ্ আবিদ হোসেন।
নিহতের নাম মোঃ বকুল (২৮) ,সে নেত্রকোণা জেলার হুগলা গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের ছেলে বলে জানায় পুলিশ। হত্যায় জড়িতরা হলো- স্বামী-স্ত্রী ১। ফারুক মিয়া ও মৌসুমী আক্তার , তারা উভয়ে কুড়িগ্রাম জেলার কৃষ্ণপুর মিয়াপাড়ার বাসিন্দা বলে জানান পুলিশ।
, ২। মোঃ হৃদয় মিয়া (২০), ৩। মোছাঃ সাবিনা আক্তার (১৮) সে নেত্রকোণা জেলার হুগলা গ্রামের বাবুল মিয়া ও পারুল বেগমের মেয়ে। এছাড়া পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে – একটি ছুরি (গার্মেন্টসে ব্যবহৃত) মোবাইল ফোন (ভিকটিমের) একটি কাপড়ের ব্যাগ (যাতে করে লাশের হাত, পা বহন করে কুড়িগ্রামের ফেলে আসে) একটি ইটের অংশ (হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হয়)

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ‘মধ্যকুমরপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ’ সকল শর্ত পুরণ হলেও এমপিওভুক্ত হয়নি

Read Next

গাজীপুর মহানগর কোনাবাড়ী থানা দিন আরফান সিএনজি রি ফুয়েলিং স্টেশন লিঃ এ ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

%d bloggers like this: