শিরোনাম
সারা অঙ্গে ঘা ঔষধ দিবো কোথায় ? শাহীন মির্জা – প্রথম বেলা

সারা অঙ্গে ঘা ঔষধ দিবো কোথায় ? শাহীন মির্জা

ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, সত্যকে বেশী দিন পাথর চাপা দিয়ে রাখা যায় না। দেরিতে হলেও সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে, প্রশাসনের বিবেক জাগ্রত হয়েছে, দেশের মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন হাজারো  সালাম, বর্তমানে সাহসী যুগান্তকারী, দুর্নীতি বিরোধী দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। আমরা জানতাম মসজিদের শহর ঢাকা, এখন হচ্ছে ক্যাসিনোর শহর ঢাকা। আর মতিঝিল হচ্ছে ক্যাসিনো পল্লী, জুয়ার জমজমাট আসর। এক সময় ফুটবল খেলার সোনালী সময় ছিল আবাহনী মোহামেডান চিরপ্রতিদ্বন্দীর খেলা দেখার জন্য টিভির সামনে বসে থাকতাম এখন সেই ক্লাবগুলো খেলাকে ধ্বংস করে বানিয়েছে জুয়ার ক্লাব, ক্যাসিনো পল্লী, মদ আর নারীর দেহ ব্যবসা কেন্দ্র, অস্ত্র প্রর্দশনী ও চাঁদাবাজদের স্বর্গরাজ্য। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র নামের মাঝে কত সম্মান, গভীরতা, শ্রদ্ধা স্বাধীনতার বীর সন্তানদের কথা স্মরণ করে তাঁদের স্মৃতিকে ধরে রাখার নাম মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অথচ আজ আমরা কি দেখতে পেলাম। সেই ক্লাবে চলে জুয়া, মদ, হাউজি ও ক্যাসিনোর মতো নিকৃষ্ট খেলা যা আমাদের ভাবতেও লজ্জা হয়। রাজনীতি আজ দুর্বৃত্তায়নের হাতে চলে গেছে। হাইব্রিড নেতায় দেশ ভরে গেছে, ক্ষমতা পরিবর্তনের সাথে সাথে এরা ভোল পাল্টায়। চোর, সন্ত্রাসী, জুয়াড়–, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, নারী ব্যবসায়ী, এর কখনো কোন দলের হতে পারে না, এরা সমাজের অভিশাপ, ডাস্টবিনের কিট, ভয়ংকর ভাইরাস। এদের যত তাড়াতাড়ি নির্মূল করা যায় সমাজের জন্য তত ভালো। এরা দলের সুনাম, ঐতিহ্য, গৌরবময় অর্জন নষ্ট করে এরা দল বদলের নেতা, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন তারা ঐ দলের নেতা হয়। এদের আচরণ ভয়ংকর দানবের থেকেও খারাপ। যতটুকু জানা যায় জি.কে শামীম একসময় ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদক ছিলেন।

ভোল পাল্টে রাতের আধারে যোগ দেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পান সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। এরা আগাছা, পরগাছা, নতুন নতুন বিল্ডিং ফাটল ধরিয়ে দিতে পারে এরা কখনো কোন দলের আদর্শে পরিচালিত হয় না। রাজনীতি ও দলকে এরা বানিয়েছে লাভজনক ব্যবসা কেন্দ্র তাই দেখতে পাই এনামুল, রুপন রাজনীতির সাইনবোর্ডও দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে আলাদিনের দৈত্যকেও হার মানিয়েছে। এনামুল, রুপন ৩ বছরে ঢাকাতে ৩০ টি আলীশান বাড়ীর মালিক হয়েছেন। আমরা সাধারণ মানুষ এ গুলোর কিছুই জানতাম না, আমাদের ভাবনার মধ্যেও ছিল না। যদি প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের লাগাম টেনে না ধরতেন এবং চাঁদাবাজ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসী অভিযান চালাতে না বলতেন। সমাজের প্রতি অঙ্গে অঙ্গে দুর্নীতি কোনটির কথা বলবো আর কোনটির সমাধান পাবো ভেবে পাই না। সর্ব কাজে প্রধানমন্ত্রীকে দৃষ্টি দিতে হয় হস্তক্ষেপ লাগে তাহলে প্রশ্ন জাগে মন্ত্রী, সচিব, প্রশাসন আছে কি জন্য। এর কি জানে না খেটে খাওয়া গরীব মানুষের ট্যাক্সের টাকায় তাদের বেতন হয়। দেশ থেকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক, ঘুষ চাঁদাবাজী দূর করা তাদের দায়িত্ব। ক্ষমতার মগ ডালে বা উচ্চাসীন পদে বসে এরা কাঠের চশমা পড়ে থাকেন, এদের সামনে জুয়াড়–, চাঁদাবাজ, খুনী ঘুরে বেড়ায় তারা খুঁজে পায় না। যাদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব ইচ্ছে করলে এরাই পারবে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে সমাজ ও রাষ্ট্রকে কলঙ্কমুক্ত করতে। দুর্নীতি এত বেড়ে গেছে সৎ, অসৎ হালাল-হারাম ভুলে গেছি। মানবতা, বিবেক, মনুষত্ব, লজ্জাকে দিয়েছি বিসর্জন।

টাকা উর্পাজনের জন্য নেতা নামের মানুষ গুলো বেপরোয়া দানবের মতো হয়ে গেছে, তাদের মাঝে এত নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে এদের জুলুম, অত্যাচার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ভয়ঙ্কর হিং¯্র পশুর মত। মুখোশ পড়া হাইব্রিড নেতাদের দানবীয় আচরণ দেখে শয়তানও এই তথাকথিত নেতাদের ওস্তাদ গুরুবাবা বলে ভক্তি করবে। দিনের আলোয় জন সভায় কি মধুর কথার ফুলঝুড়ি , কি উন্নত লেবাস, রাতের আধারে নামে জুয়া, মদ , ক্যাসিনো ও নারীর দেহচুড়ি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক,ক্যাসিনো, জুয়া চাঁদাবাজি দূর করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কষ্টে গড়া উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে। কিছু পথভ্রষ্ট লোক, চাটুকার, দলবদলের নেতা, হাইব্রিড নেতা এরা দলকে ডুবায় দলের কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এদের কারণে দল বার বার হোঁচট খায়। চারদিকে হাইব্রিড নেতার ছড়াছড়ি এরা কিসের নেতা এরা মানব সমাজের কোন নেতা হতে পারে না, এর সন্ত্রাসী নেতা, মাদকের নেতা, ক্যাসিনোর নেতা, এরা জুয়াড়–, এরা অটোরিক্সার চাঁদাবাজ নেতা এরা মানব নামে দানব। যাদের বিবেক নাই, মানবতা নাই, লজ্জা নাই, মনুষত্ব নাই, ঈমান নাই, সেবা করার মনোভাব নাই, দায়বদ্ধতা নাই, দেশের প্রতি মায়া নাই তারা কখনো আমজনতার নেতা হতে পারে না। যারা দেশ ও সমাজের ক্ষতি করে গরীবের রক্ত চুষে খায় তারা সন্ত্রাসী, তারা দালাল, তারা শয়তানের বড় ভাই। কোন দলের প্রতি আমরা অন্ধ ভালোবাসা দেখাতে চাই না সাদাকে সাদা বলবো কালোকে কালো।

আমরা সাধারন মানুষ সমাজে নিরাপত্তার সহিত চিন্তামুক্ত আতংক বিহীন বাঁচতে চাই। দু-মুঠো ডাইল ভাত খেয়ে শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারি, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, সমাজের সন্ত্রাসী নেতার হাত থেকে যে দল আমাদেরকে নিরাপদে রাখবে তাদের জন্যই আমরা উপরওয়ালার কাছে ভক্তি ভরে প্রার্থনা করবো। আমরা চাই গডফাদার, মাদার বলে কোন শব্দ থাকবে না, সবাই এক কাতারে চলবো, দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলা গড়বো। দুর্নীতি করে নিজের আখের ঘোছানো যায়, কাড়িকাড়ি টাকার মালিক হওয়া যায়, কিন্তু মানুষ, সমাজ ও দেশের কোন সেবা করা যায় না, জনতার অন্তরের ভালোবাসাও পাওয়া যায় না। পরকালের জন্যও কোন সম্বল রাখা যায় না। পত্রিকার পাতায় দেখি চায়ের দোকানদার থেকে রাজনীতি অফিসের পিওন, পিওন থেকে দপ্তর সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। প্রশ্ন জাগে এরা কি জ্বীন পরীর সাথে ব্যবসা করে না কি আলাদিনের দ্বৈত্যর দেখা পেয়েছে আসলে এরা গরীবের রক্তচোষা হিং¯্র দানব। দুর্নীতি প্রতিক্ষেত্রে এমনভাবে গ্রাস করেছে দুর্নীতিই এখন সমাজে নীতিতে পরিণত হয়েছে। আমাদের মানুষের বিবেকহীন নির্লজ্জ হায়েনার মত আচরণ দেখে বনের পশুরাও লজ্জা পায় সর্বক্ষেত্রে ভেজাল, দুর্নীতি, ঘুষ, চাঁদাবাজি, কোথায় দুর্নীতি নেই? ক্লাব পাড়ায় দুর্নীতি, প্রশাসনে দুর্নীতি, শিক্ষক সমাজে দুর্নীতি, নৈতিক স্ফুলন, কিছু মাদ্রাসা শিক্ষকের ধর্ষন, ঔষধ ক্ষেত্রে ভেজাল দুর্নীতি, খাদ্যে ভেজাল, ফরমালিন, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ কোন ক্ষেত্রে দুর্নীতি নেই তাই এখন কম্বল থেকে লোম উঠালে কম্বলের কিছুই থাকবে না। জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহ্ম্মেদ কবীর ও সুনামগঞ্জের দুর্নাম রটিয়েছেন ইউ.এন.ও আসিফ ইমতিয়াজ। পঞ্চাশ ষাট বছরের কিছু বয়স্ক মানুষ রূপে পশু, ধর্ষন করে বারো তেরো বছরের শিশুকে। সমাজের প্রতিটি বিবেকের অঙ্গে অঙ্গে পচন ধরেছে।

দেহের এক দুই জায়গায় পচন ধরলে মলম লাগানো যায়, সারা অঙ্গে পচন ধরলে ঔষধ দিবো কোথায়। জাতীয় সংসদের হুইপ শামছুল হক চৌধুরীর পুত্র শারুন এর অস্ত্র ও মদ বিলাস দেখে আমরা অবাক হই। আমাদের বিবেক কিভাবে পচন ধরেছে, নোংরা, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসীদের চারদিকে জয়ের ধ্বনি তাদের দাম্ভিকতা রাজনীতিকে করেছে কলঙ্কিত। প্রতিটি রাজনীতি দলের চরিত্র প্রায় একই, একটি টাকার এ পিঠ ও পিঠ যে লংকায় যায় সেই রাবন হয় সুযোগ পেলে কম্বর চুরি করতে কেউ দেরি করে না। এতসব কিছুর উর্ধ্বে উঠে একজনকে লোভ লালসা, মোহ ত্যাগ করে সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি মুক্ত করে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখাতে হবে। দুর্নীতি ও সর্বক্ষেত্রে ভেজাল চিরাচরিত নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। শিশু বাচ্চার প্যাকেটজাত দুধের মধ্যে ও ভেজাল ঔষধের মাঝেও ভেজাল, মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে সেখানেও ভেজাল লাভ লসের হিসাব তারতম্য করে ভালোবাসার অভিনয় করা হয়। দুর্নীতি, ভেজাল চাঁদাবাজি ও জুয়া এগুলো রাজনীতির ছত্রছায়ায় করা হয়। তথাকথিত ভুইফোড় নেতা, হাইব্রিড নেতা, ব্যানার পোষ্টারের নেতা যে যত বেশী পোষ্টার লাগাবে নিজের পদ পদবি যত বেশী জাহির করবে তার রাজনৈতিক ব্যবসা চাঁদাবাজি তত বেশী হয়, জুয়া, ক্যাসিনো ও মদের আসরের নেতা হয়। অনেক বাঁধা, সংগ্রাম, কষ্ট, হোঁচট খেয়ে চড়াই উতরাই পেরিয়ে একটি দল প্রতিষ্ঠিত হয়, সেই দলের ক্লীন ইমেজ নষ্ট করে উন্নয়নের ধারা ব্যাহত করে কিছু কুলাংগার, কুচক্রী অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিড নেতা। এরা রাজনীতির নেতা নয় এর দালাল, এরা ভাইরাস এরা দল ও দেশের জন্য বিপদজ্জনক, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

নয়তোবা ইতিহাস রচনা করার মত এ দেশের উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে। যারা অন্তর থেকে মনে প্রাণে দলকে ভালবাসবে তারা কখনো দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করবে না। যারা দলের আদর্শকে বুকে ধারণ করে যারা দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ দলের পদ পদবী ব্যবহার করে মদ, জুয়া, হাউজি, ক্যাসিনো ব্যবসা করবে না। গুটি কয়েক দুর্নীতিবাজ কুলাংগার নেতার জন্য দলের ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। দুর্নীতি ও ভেজালের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। স্কুল, কলেজ মাদ্রাসায় দুর্নীতি, ভেজাল খাদ্য ও চাঁদাবাজের কুফল বর্ণনা করতে হবে। যে কুচক্রী মহল দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান বাঁধাগ্রস্থ করতে চায় সেই বেঈমান ও দেশদ্রোহীদের আইনগত ভাবে দাত ভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশে দুর্নীতি জঞ্জাল ও গডফাদারদের শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। জার্মানি ১৯৩৪ সালে, কিউবা ১৯৬১ সালে, তুরস্ক ২০১৪ সালে এবং বাংলাদেশ ২০১৯ সালে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করে বিশ্বের দরবারে দৃষ্টান্তমূলক যুগান্তকারী ইতিহাস গড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৎ সাহস, দূরদর্শীতা, বুদ্ধিমত্তা, দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে অন্যায়ের সাথে আপোষ না করা চাঁদাবাজ ও জুয়াড়–দের প্রশ্রয় না দেওয়া সেই সৎ সাহসে এই শুদ্ধি অভিযান তারই প্রমাণ করে।
ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে কেনা এ দেশ মুক্তিযোদ্ধারা জাতীর সূর্যসন্তান এরা অন্যায়, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও জুয়াড়–র কাছে মাথা নত করতে শিখেনি। আমরা তাদের সন্তান তাই বাংলাকে রাখবো দুর্নীতিমুক্ত, দেশকে গড়বো মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শে। তাই কবি কে.এম সালাহউদ্দিন এর কণ্ঠে আমরা সবাই বলবো।
“লাখো শহীদের জ্যোতি অম্লান মুছে হতাশার শোক
ভাঙ্গুক আকাশ তবুও চাহিনা স্বদেশের ক্ষতি হোক”।

সবাইকে সজাগ থাকতে হবে গুটি কয়েক, দুর্নীতিবাজ, জুয়াড়–, চাঁদাবাজের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে গড়া বাংলাদেশ এর উন্নয়ন যাত্রা ভঙ্গ হতে পারে না। অন্ধকার যতই গভীর হউক সূর্য এক সময় উঠবেই।

লেখকঃ নাট্যকার, কলামিষ্ট।

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

দায়িত্ব পালনে একনিষ্ঠ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জহুরুল ইসলাম সরকার

Read Next

হুমায়ন কবির বাপ্পি এক সংগ্রামী ছাত্রনেতা

%d bloggers like this: