শিরোনাম
উত্তরখানের তিন মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু – প্রথম বেলা

উত্তরখানের তিন মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু

আরিফ শেখঃ প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও সার্বজনীন শারদীয় শ্রীশ্রী দূর্গা পূজা শুরু হয়েছে উত্তরখান থানার পূজা মন্ডুপগুলোতে। ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাপঞ্চমীর মধ্যে দিয়ে শুরু হয় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। এবারে উত্তরখানের পূজা উদযাপন কমিটি পুজা মন্ডপে আয়োজন করেছে তার মধ্যে অন্যতম মৈনারটেক সার্বজনীন দূর্গাপূজা কমিটির মৈনারটেক শিব দূর্গা মন্দির প্রাঙ্গন, উত্তরখান থানা সার্বজনীন পূজাঁ সমন্বয় পরিষদের কুমুদখোলা তেরমুখ ও মাউছাইদ স্বন্নীল হিন্দু সেবা সংঘের আয়োজনে মাউছাইদ উজামপুরের পুজা মন্ডপ।
ক্ষণে ক্ষণে উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসর আর ঢাকের বাদ্যি জানান দিচ্ছে ঠাকুরঘরে উদ্ভাসিত মৃন্ময়ী রূপ প্রতিমাবরণ। চিন্ময়ী আনন্দরূপিণীর বোধন হয়েছে গত ৩ অক্টোবর। শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসব, শারদীয় দুর্গোৎসব। শুক্রবার গেছে মহাষষ্ঠী।
আজ শনিবার মহাসপ্তমী। মহাসপ্তমীর প্রভাতে ঢাক-ঢোলক-কাঁসর বাজিয়ে কলাবউ স্নান ও আদরিণী উমার সপরিবারে তিথি বিহিতপূজা। মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপচারে অর্থাৎ ১৬টি উপাদানে দেবীর পূজা হবে। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। সপ্তমী পূজা উপলক্ষ্যে সন্ধ্যায় পূজামন্ডপে ভক্তিমূলক সংগীত, রামায়ণ পালা, আরতিসহ নানা অনুষ্ঠান হবে। আলো-সানাই আর ঢাকের রোয়াবে হিন্দু নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোরদের প্রাণ আনচান করছে।
বাঙালি হিন্দুবিশ্বাসে, কৈলাসশিখর ছেড়ে পিতৃগৃহে আসা মা দুর্গার অকালবোধন হয়েছে। আকাশে-বাতাসে এখন শারদ উৎসবের বিন্দাস শিহরন। শিল্পী তার তুলির নিপুণ আঁচড়ে বর্ণাঢ্য বিভায় উদ্ভাসিত করে তুলেছে মহিষাসুর মর্দিনীকে। কুমারটুলি থেকে প্রতিমার অধিষ্ঠান হয়েছে মন্ডপে। বোধনে খুলে গেছে তার আয়ত চোখের পলক। অসুর বধে চক্র, গদা, তির, ধনুক, খড়গ-কৃপাণ-ত্রিশূল হাতে মাতৃরূপেণ দেবী হেসে উঠেছেন। ধূপের ধোঁয়ায় আজ সায়ংকালে ঢাক-ঢোলক-কাঁসর মন্দিরার চারদিক কাঁপানো নিনাদ আর পুরোহিতদের জলদকণ্ঠে : ‘যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা, নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ’ মন্ত্রোচ্চারণের ভেতর দূর কৈলাস ছেড়ে মা পিতৃগৃহে আসবেন ঘোটকে চড়ে।
বিশুদ্ধ হিন্দু পঞ্জিকামতে ফল—“ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে”। অর্থাৎ ঘোটকে আগমনে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংসারিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা প্রকাশ পাবে। সুদর্শন পঞ্জিকামতে, বিজয়া দশমীতে এয়োস্ত্রীদের দেবীবরণ ও সিঁদুর খেলার পর বিদায় নেবেন আবারও ঘোটকে করে।
রাজধানীর অদুরে উত্তরখানের এই তিন স্থানে এখন কেবলি চোখে পড়ছে লাল-নীল আলোর চোখ ধাঁধানো খেলা। মন্দিরের প্রবেশ তোরণ থেকে মন্দির জুড়েই বর্ণিল আলোকের রূপবিন্যাস।
মৈনারটেক সার্বজনীন দূর্গাপূজাঁ কমিটির সভাপতি ডাঃ চন্ডীদাস সরকার ও সাধারন সম্পাদক মধুসূদন সরকারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাপঞ্চমীর দিয়ে শুরু হওয়া শারদীয় দূর্গাপূজাঁ ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার মহা দশমীর মধ্যে দিয়ে সম্পুর্ণ করা হবে।
এবারে পুজাঁয় মা দূর্গার কাছে তাদের প্রতÍাশা সম্পর্কে সার্বজনীন শারদীয় শ্রী শ্রী দূর্গাপূজাঁ উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক বাবু চন্দন কুমার রায় বলেন,দেবী দূর্গার অশীম কৃপাবলেই মানুষ প্রান শক্তিতে উজ্জীবিত। মা দূর্গার ত্যাগে,মহীমায়, শুদ্ধতায়, ওপূর্ণতায় মানুষের জীবন হোক সুন্দর। অশুভ নিপাত শুভর জয় হোক এ প্রত্যাশাই কামনা করেন তারা।
উত্তরখান থানা সার্বজনীন পুজা সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অমিত কুমার দাশ জানান, সাধারণত আশ্বিন শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশম দিন অর্থাৎ দশমী অবধি পাঁচ দিন দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। আবার সমগ্র পক্ষটি দেবীপক্ষ। দেবীপক্ষের সূচনা হয় পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন; এই দিনটি মহালয়া। অন্যদিকে দেবীপক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিন পূর্ণিমায়; এই দিনটি কোজাগরি পূর্ণিমা নামে পরিচিত ও বার্ষিক লক্ষ্মীপূজার দিন। দুর্গাপূজা মূলত পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় তার সমাপ্তি। কোনো কোনো পরিবারে অবশ্য ১৫ দিনে দুর্গোৎসব পালনের প্রথা আছে।

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার যুবলীগ নেতা আমির হোসেন

Read Next

উত্তর খান ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৬ ইং ব্যাচের বন্ধু সংগঠন এর ২য় বর্ষ পূর্তি উদযাপিত

%d bloggers like this: