শিরোনাম
অর্থবছরের প্রথম মাসে তিন মেগা প্রকল্পে অর্থ ব্যয় শূন্য – প্রথম বেলা

অর্থবছরের প্রথম মাসে তিন মেগা প্রকল্পে অর্থ ব্যয় শূন্য

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) তিন মেগা প্রকল্পে অর্থ ব্যয় শূন্য ছিল। অর্থাৎ কোনো টাকা খরচ হয়নি। প্রকল্পগুলো হচ্ছে- পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ এবং ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট বা মেট্রোরেল।

জুলাইয়ে ফাস্টট্রাক অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। অর্থ ব্যয় না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, প্রথম মাস হওয়ায় হয়তো কোনো কারণে অর্থ ব্যয় হয়নি। তবে বাস্তবায়ন কাজ কিন্তু চলছে। মেট্রোরেলের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

রাস্তায় বের হলে সুন্দর অগ্রগতি চোখে পড়ে। অন্য মেগা প্রকল্পগুলোরও কাজ এগিয়ে চলছে। আগস্ট মাসের অগ্রগতি প্রতিবেদনে হয়তো দেখছেন অর্থ ছাড় হয়েছে। এভাবে যত দিন যাবে ততই অর্থ ছাড় বাড়বে। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সিস্টেম হল ঠিকাদারদের বিল এলে আমরা তা পেমেন্ট করি। অর্থবছরের প্রথম মাস হওয়ায় কোনো বিল জমা হয়নি। তাই অর্থ ব্যয় হয়নি। তবে বাস্তবায়ন কাজ ঠিকই হয়েছে।’

সূত্র জানায়, মেট্রোরেল প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৭ হাজার ২১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৬৭৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং জাইকার ঋণ থেকে ৫ হাজার ৫৩৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু জুলাই মাসে এক টাকাও ব্যয় হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির সার্বিক গড় অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ০৫ শতাংশ। ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়িতব্য প্রকল্পটির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৬০৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এছাড়া প্রকল্পের অন্যান্য কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। পূর্ত কাজে ৫০ শতাংশ হয়েছে। উত্তরা নর্থ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত নয়টি স্টেশন নির্মাণ কাজের ৫৪ শতাংশ, আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সাতটি স্টেশন নির্মাণ কাজের ১৫ দশমিক ৭০ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল সিস্টেমের ১৪ শতাংশ, রেল কোচ ও ডিপো ইকুইপমেন্টের ১৫ দশমিক ০৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু জুলাই মাসে এক টাকাও ব্যয় হয়নি। তবে ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদের এ প্রকল্পে ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৫৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।

ফাস্টট্র্যাক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য এ প্রকল্পটিকে ১৯টি কম্পোনেন্টে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ৬টি পিপিপির মাধ্যমে এবং ৬টি জিটুজি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, কতিপয় পূর্তকাজ, জাহাজ নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রুটে ড্রেজিং, পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করছে। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ ৫৯ দশমিক ২৯ শতাংশ, পূর্তকাজ ৮৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ, জাহাজ নির্মাণ ৭৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ডিটেইল মাস্টার প্লান ৩২ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ রুট ড্রেজিং শতভাগ, পুনর্বাসন ৩১ শতাংশ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ২৭ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।

এদিকে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ৯৯৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২ হাজার কোটি টাকা। জুলাই মাসে আর্থিক অগ্রগতি শূন্য শতাংশ।

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

গ্রেফতার হওয়া শামীমকে নিয়ে যা বললেন যুবলীগ চেয়ারম্যান

Read Next

তিউনিসিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ক্যান্সারে মারা গেছেন

%d bloggers like this: