আলসেমি যেভাবে দূর করবেন

মেহেদী হাসান বিপ্লবঃ বেশিরভাগ মানুষ কাজকর্মে ঢিলেমি বা আলসেমি করতে পছন্দ করে। একটা কথা আমরা প্রায়ই শুনি, “Now or Never”, অর্থাৎ “এখন না, তো কখনই না”। কোন কাজই আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখা উচিত নয়। কাজ ফেলে রাখলে তা জমতে জমতে এমন অবস্থায় উপনীত হয় যে সেই কাজ সহজে আর শেষ করা সম্ভব হয় না। তাই অবসর সময়কে অলসতায় ডুবিয়ে না দিয়ে হাতের কাজগুল শেষ করে নেয়া ভালো। ময়কে কাজে লাগিয়ে সব সময় অ্যাকটিভ থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু অলসতা আমাদের অ্যাকটিভ থাকতে দেয় না! সর্বদা সকল কাজের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কিছু কৌশল অবলম্বন করে আমরা সহজেই অলসতা কাটিয়ে উঠতে পারি। তেমনই কিছু কৌশল নিয়ে আজকের এই লেখা:

১. অলসতাকে না বলো:

অলসতা শুধু যে কাজেই বাধা দেয় তা কিন্তু নয়; অলসতা থেকে মন খারাপ, বিষন্নতা ও নানা ধরনের মানসিক অস্থিরতার শুরু হতে পারে। তাই অলসতাকে না বলো। পরিশ্রমী ও কর্মোদ্যমী হয়ে ওঠো। জীবন কেবল আনন্দ আর হৈ হুল্লোড় নয়, জীবনের অনেক যন্ত্রণা ও হতাশা আছে। অনেক অচিন্তনীয় ঘটনা ঘটে, অনেক সময় সব বিষয় ওলটপালট হয়ে যায়।।

২. নিজেকে প্রশ্ন করো:

যখন কোন কাজ করতে ইচ্ছা করে না, কিন্তু অনেক কাজ পড়ে থাকে তখন কিছুটা সময় নাও। হালকা দম নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করো,

  • তুমি যে কাজটি করছো তা কি ঠিক হচ্ছে?
  • যদি এভাবে চলতে থাকে ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তোমার কাজে উৎসাহ দিবে, অলসতা দূর করবে। আসলে জিবন ১টা ক্যাফেটরিয়ার মতো। ১টি ট্রে হাতে নিয়ে খাবার পছন্দ করে নিন তারপর দাম মিটিয়ে দিন, যদি আপনি খাবারের দাম দিতে প্রস্তুত থাকেন তবে যে কোন খাবারই নিতে পারেন। আসলে Life is full of choice and compromises.

             “মনে রাখবে, হেরে যাওয়া মানেই থেমে যাওয়া নয়”

৩. লক্ষ্য নির্ধারণ করো:

নিজের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করে নাও। যেমন ধরো, নির্ধারণ করে নিলে, কোন একটি কাজ ৪০ মিনিটের মধ্যে শেষ করবে। কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়বে না। কাজ শেষ করেই বিরতি নাও, এর আগে নয়। তা না হলে অলসতা আবার ঘাড়ে চেপে বসবে।

৪. নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হও: 

যখন আলসতা ভর করে ঠিক তখনই কোন না কোন কাজ করার জন্য নিজেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করো। নিজের অসমাপ্ত বা অপূর্ণ কাজগুলোর কথা মনে করো। এটা তোমাকে অলস সময় না কাটিয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে। Just Imagine How do we measure of life?

৫. ছোট ছোট পদক্ষেপ দিয়েই হোক সূচনা: 

বড় কোন কিছুর সূচনা ছোট থেকেই হয়। তাই ছোট ছোট কাজ করে অলসতাকে হার মানাতে পারো। হেনরিক এডবার্গ খুবই জনপ্রিয় একজন লেখক। তিনি কিশোর বয়সে খুবই অলস ছিলেন। অলসতা কাটানোর জন্য তিনি মাসের প্রতিদিন এক পাতা করে লিখতেন। পরবর্তী মাসে সেই লেখা সম্পাদনা করতেন। এভাবেই তাঁর বেশ কিছু জনপ্রিয় সাহিত্যের জন্ম হয়।

৬. ফেলে রাখা কাজে ইতিবাচক কী আছে দেখুন 

অনেকেই ব্যর্থতার ভয়ে কাজ ফেলে রাখেন। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুসচিয়া সিরোইস বলছেন, আলস্য বা সময় ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা সমস্যা নয়। আপনি যদি উদ্বিগ্ন হন এই ভেবে যে, আপনি ব্যর্থ হবেন—তাহলে কাজ ফেলে রাখার যুক্তি তৈরি হবে। এটা একটা বাজে চক্র তৈরি করতে পারে: বিলম্ব করার কারণে কাজ করার সময় কমে যাচ্ছে, যা ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং তা আপনাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। তাই কাজের মধ্যে ইতিবাচক কী আছে তা খুঁজে বের করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করে দিন।

৭. নিজেকে পুরস্কৃত করুন

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাইটলিনের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাত্ক্ষণিক পুরস্কার কঠোর পরিশ্রম করতে উদ্বুদ্ধ করে। জটিল কাজ ফেলে রাখা থেকেই আলসেমি শুরু হয়। তাই এর পালটা ব্যবস্থা হতে পারে যথাসময়ে কাজের পুরস্কার। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা বলছে—জিমে ব্যায়াম করার সময় অডিও বুকস দিলে তা ভালো কাজ করে। অর্থাত্ সেই তাত্ক্ষণিক পুরস্কার।

৮. যে বিষয়গুলো অলসতা তৈরী করে সেগুলো থেকে দূরে থাকো:

হাল আমলে অলস সময়গুলোর সঙ্গী হয়ে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ বা টেলিভিশন। এসব থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও দূরে থাকো। কাজে মন বসবে এবং অলসতাও হার মানবে।

৯. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি বাছাই করো:

আজ সারাদিনে বা এই সপ্তাহে কোন কোন কাজটি করা জরুরি তার একটি তালিকা করে ফেলো। সেই লিস্ট অনুযায়ী কাজগুলো কিছুটা এগিয়ে রাখো। জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে

১০. মোটিভেশনের জন্য ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে

ক্রীড়া মনোবিদ ইয়ান টেইলরের মতে—মানুষ অনেক সময় মনে করে ইচ্ছাশক্তিই সব কিছু; কিন্তু এটি সঠিক নয়। ইচ্ছাশক্তি বা আত্মনিয়ন্ত্রণ এক ধরনের মোটিভেশন; কিন্তু এটিই সর্বোত্তম এবং শেষ কথা নয়। ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজের খারাপ দিকটিকে উপেক্ষা করাই শ্রেয় বলে মনে করেন ইয়ান টেইলর। বরং খারাপ দিকটিকে উপেক্ষা করাকেই অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে হবে, যা হবে লক্ষ্য অর্জনের একটি অংশ।

Read Previous

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১০০ টাকার ভুয়া নোটের ছবি

Read Next

চট্টগ্রাম টেস্টে সাকিবদের পরাজয়ে বৃষ্টিও লজ্জা পেল

%d bloggers like this: