শিরোনাম
এসিল্যান্ড অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে উত্তরখান ভুমি অফিসে লাগামহীন দুর্নীতি – প্রথম বেলা

এসিল্যান্ড অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে উত্তরখান ভুমি অফিসে লাগামহীন দুর্নীতি

নিম্নমানের সেবা, ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়েনা,জনগনের ভোগান্তি চরমে

স্টাফ রিপোর্টারঃ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরা ১নং সেক্টরে অবস্থিত এসিল্যান্ড অফিস এবং কাচকুড়া ভুমি অফিসে সরেজমিনে তদন্ত চালায় দৈনিক প্রথমবেলার একটি টিম। তদন্তে দেখা যায় জমির খারিজ, নামজারি, রেকর্ড সংশোধন ইত্যাদি কাজ নিয়ে মানুষ ভূমি অফিসে এলে ইদানিং অনেকটা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।
এই অনিয়ম দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে দুই অফিসের বেশ কজন অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী । এতে জড়িত, নায়েব, জমা সহকারী, অফিস সহকারী, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী, সার্ভেয়ার, সার্টিফিকেট সহকারী, নাজির, অফিস সহায়ক, চেইনম্যান ও নৈশ প্রহরীসহ আর অনেকেই।
প্রথমবেলার এই টিমকে এক ভুক্তভোগী বলেন, একই স্থানে একাধিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন চাকরির সুবাদে তারা অনেকটা লাগামহীন হয়ে পড়ে। জমির খাজনা খারিজ, নামজারি, রেকর্ড সংশোধন ইত্যাদি কাজ নিয়ে মানুষ ভূমি অফিসে এলে ইদানিং অনেকটা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।
এই দুই অফিসে তদন্ত করে জানা গেছে, এ খাতে খাজনা আদায়, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভূমি অধিগ্রহণে চেক জালিয়াতি, নীতিমালা ভঙ্গ করে জমি বরাদ্দ দেওয়া, জলমহাল ইজারাসহ নানা ক্ষেত্রে অবাধ দুর্নীতির অব্যহত রয়েছে।
এক ভুক্তভোগির সাথে কথা হয় প্রথমবেলা টিমের, উত্তরখানের মাউসাইদ এলাকার আমিরুন নেসার পক্ষে তার পুত্র ভুক্তভোগী ফরহাদ হোসেন জানান প্রায় দেড়মাস পূর্বে তিনি মায়ের নামীয় উত্তরখান মৌজার ২২.৬৭ শতাংশ জমি নামজারী জমাভাগ করার জন্য সরকারী নিয়ম নীতি অনুসরন করে অনলাইন আবেদন করি। এই আবেদন করতে আমাকে তিনদিন ঘুরতে হয়েছে। আবেদনের পর এসিল্যান্ড অফিস আমাকে ৭দিন পর উত্তরখান ইউনিয়ন অফিস কাচকুরা ভুমি অফিসে যোগাযোগ করতে বলে। তিনি বলেন ঈদের ছুটিতে ব্যাক্তিগত কাজে ব্যাস্ত থাকায় আমি আবেদন নিস্পত্তির নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে পারিনি। তারপর যখন যোগাযোগ করি তখন তারা আমাকে একবার এসিল্যান্ড অফিসে পাঠায় তারা আবার কাচকুড়া ভুমি অফিসে পাঠায় । আমি এসিল্যান্ড অফিসের নাজির কে নিজ সমস্যার কথা খুলে বলে আমার নথি ফিরে পেতে আবেদন করলে তিনি তার সহকারী ফারুক কে আমার আমার নথি ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেইলে ফারুক নানা সমস্যার কথা বলে নথি ফিরিয়ে দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এবং আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। ফারুক এক পর্যায়ে আমাকে বলে নথি আমি ভুমি অফিসে নুরুজ্জামান স্যারের কাছে পাঠিয়ে দেব। কিন্তু পরে নুরুজ্জামান স্যারের সাথে মোবাইলে কথা বলে সে তাও করেনি বরং পরোক্ষ ভাবে সে আমার কাছে অর্থ দাবী করে। মাঝ পথে আমি আমাদের ভুমি অফিসের কর্মচারী মোশারফ কে কিছু টাকা দিয়ে নথি আনতে এসি ল্যান্ড অফিসে পাঠাই কিন্তু ফারুক তাও দেয়নি আমার নথি। এভাবে এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাবার পর আবার আমি এসিল্যান্ড অফিসে গেলে ফারুক আমার কাছে এবার প্রকাশ্যই টাকা দাবী করে এবং বলে টাকা না দিলে ফাইল দেবোনা, আপনি যা পারেন করেন গিয়ে। এসিল্যান্ড অফিসের নাজিরের সহকারি ফারুক, কাচকুড়া ভুমি অফিসের নায়েব নুরুজ্জামান, মোশারফ এরা মিলে আমাকে এই হয়রানীর মাঝে ফেলে। কিছু টাকাও আমি তাদের দিয়েছি, কিন্তু পরিমানে অল্প হওয়াতে তারা আমার কাজ করে দেয়নি, আমার সাথেই অনেকে বেশি টাকা ঘুষের বিনিময়ে তাদের কাজ করিয়ে নিয়ে গেছে। এর আগে আমার জমির খাজনা খারিজ করতে এসিল্যান্ড অফিসের নাজিরের সহকারি ফারুক আমাকে জানায় যে ৪৭ হাজার টাকা লাগবে, আমি তাকে ২৫ হাজার টাকা দেই, সে আমাকে ১২ হাজার টাকার রিসিট কেটে দিয়েছে, তাহলে আমার বাকী টাকা গেলো কই??? এ রকম নানা দুর্নীতির আখড়া এই ভুমি অফিস।
আমাদের টিম এ রকম আরো বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছে। এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রকাশিত হবে দৈনিক প্রথম বেলায়। আগামী সংখ্যায় থাকছে ” যেভাবে জনগণকে ঘুষ দিতে বাধ্য করে ভুমি অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দালালেরা”

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

পাইকগাছায় শোকুন দিবস পালিত

Read Next

উত্তরা ৪নং এবং ৬নং সেক্টরের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ড্রেন ও রাস্তার কাজ উদ্বোধন

%d bloggers like this: