শিরোনাম
সিঙ্গেল ডিজিটের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল – প্রথম বেলা

সিঙ্গেল ডিজিটের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল

ব্যাংক ঋণের সিঙ্গেল ডিজিট ও সরল সুদের কথায় আশ্বস্ত হয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। এ ধরনের আলোচনা শিল্প বিকাশের নতুন প্রণোদনা যোগায়। যারা পরিস্থিতির কারণে আটকে গিয়েছিলেন, তারাও আশায় বুক বাঁধেন, নতুন কিছু করার উদ্যম পান। কিন্তু সে আশায় যেন গুড়েবালি। সিঙ্গেল ডিজিটের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, গত মে থেকেই সরল সুদ কার্যকর করবেন। সেটি কার্যকরতো দূরের কথা, ঘোষণাই আসেনি এখনো। বরং ব্যাংকগুলোতে গেলে উদ্যোক্তাদের হতাশ হতে হয়। পরিচালনা ব্যয়, খেলাপি ঋণ-সবমিলিয়ে ‘সুন্দর’ কথার বাস্তবায়ন অসম্ভব- এমন বার্তাই গ্রাহকদের কানে দিচ্ছে ব্যাংকগুলো।

নতুন উদ্যোগে বিনিয়োগে অনীহা থাকলেও বিতরণকৃত ঋণ খেলাপি হওয়ার পরিমাণ বরং বেড়েই চলেছে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকিং খাতে তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থা -আইএমএফ। কিন্তু খেলাপি ঋণ যেখানে কমার কথা, সেখানে বেড়েছে কেন? উদ্যোক্তারা বলছেন, যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ইচ্ছে করেই খেলাপি হন তাদের কথা ভিন্ন। প্রকৃত উদ্যোক্তাদের খেলাপি হওয়ার নানা কারণ রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ তম্মধ্যে অন্যতম। গ্যাস-বিদ্যুত্ সুবিধার অভাবে কলকারখানা চালু রাখা সম্ভব না হওয়ায় অনেক উদ্যোক্তাই খেলাপি হয়েছেন। পরিস্থিতির শিকার এসব উদ্যোক্তার কথা বাদ দিলে যারা ইচ্ছেকৃত খেলাপি, তাদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। একইভাবে ব্যাংকিং সূত্রগুলোও বলছে, খেলাপি ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ যাচাইবাছাই ছাড়া ঋণ প্রদান। এটি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে ভিন্নভাবে হলেও সেটি বাস্তবতা। সরকারি ব্যাংকে পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের প্রভাবে ঋণ বিতরণ করা হয়। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষেরও যোগসাজশ থাকে যা হলমার্ক, বিসমিল্লাহ, জনতা কিংবা বেসিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে ঘটেছে। বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ নিচ্ছেন। এসব ঋণের সঠিক যাচাইবাছাই হয় না বলেও সূত্র জানায়।

সূত্রমতে, অনিয়মের কারণে গোটা ব্যাংকিং খাত এখন খেলাপি ঋণের ভারে ন্যুব্জ। গত এক বছরের ব্যবধানে ২২ হাজার কোটি টাকা বেড়ে জুন শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ না নিলে এটি বাড়তেই থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইচ্ছেকৃত খেলাপিদের দাপটে এক ধরনের বিশৃঙ্খলাও রয়েছে বলে তাদের অভিমত। অন্যদিকে, প্রকৃত উদ্যোক্তা যারা জ্বালানি সংকটসহ আনুষঙ্গিক কারণে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা ঢালাও অভিযুক্ত হচ্ছেন। ফলে এই বিশৃঙ্খলার রাশ টেনে ধরা জরুরি এবং তদারকি বাড়ানোর বিকল্প নেই। আইএমএফও ব্যাংকিং সুপারভিশন আরো বাড়ানোর পাশাপাশি খেলাপি গ্রাহকদের আইনি সহায়তা বন্ধে গুরুত্বারোপ করেছে।

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

ইতালিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দলের সাথে বাংলাদেশ সমিতি ভেনিস এর সভাপতি এবং নিউ ওয়ার্ল্ড সার্ভিস এর চেয়ারম্যান মোঃ মুজিবুর রহমান সরকারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

Read Next

আব্দুল্লাহপুরে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে অসহায় পথচারীরা

%d bloggers like this: