শিরোনাম
আব্দুল্লাহপুরে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে অসহায় পথচারীরা – প্রথম বেলা

আব্দুল্লাহপুরে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে অসহায় পথচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর অন্যতম প্রবেশধার আব্দুল্লাহপুরে চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছিনতাইকারী চক্রটি প্রতিনিয়ত ঘটিয়ে যাচ্ছে বড় বড় ছিনতাইয়ের ঘটনা। কিন্তু তারা চোখের সামনে থেকেও রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আব্দুল্লাহপুর থেকে সব এলাকার বাসের কাউন্টার থাকায় প্রতিদিন লাখো মানুষের চলাচল এই এলাকায়। তাই সব সময়ি পথচারীতে সরগরম থাকে আব্দুল্লাহপুর। ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যে অসহায় হয়ে পড়েছেন পথচারিরা। বিষেশ করে নারী পথচারীরা এ পথে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেন।

ছিনতাইকারীরা সারাদিনই আব্দুল্লাহপুর এলাকাকে ঘিরে তৎপর থাকলেও তাদের তৎপরতা বেড়ে যায় সন্ধ্যা নামার পর। পলওয়েল মার্কেট থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার দুপাশই তাদের অভয়ারণ্য। একমাত্র ওভারব্রিজটিও নিরাপদ নয় তাদের হাত থেকে। প্রায় প্রতদিনি ঘটছে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা। পুলিশের নাকের ডগায় ঘটনা ঘটলেও তারা নিরব।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মালা নামের এক কলেজ পড়ুয়া রাস্তা পাড় হতে গিয়ে একপাড় পেরিয়ে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন অপর পাড়ে যাবার অপেক্ষায়, তার পাশে আর কেউ ছিলোনা, এ সময় হটাৎ করে ৩/৪ টা অল্প বয়স্ক ছেলে (নেশখোর) উদয় হয়, তাদের একজন মালার হাতে থাকা মোবাইল ফোন ও পার্স কেড়ে নেয়, মালা বাধা দিতে গেলে তারা ব্লেড দিয়ে ভয় দেখায়, মালা জীবন বাচাতে রিক্স নিয়ে দৌড়ে রাস্তা পাড় হয়ে এপারে চলে আসে। ছিনতাইকারীরা তখনো মাঝ রাস্তাতেই দাঁড়ানো ছিলো। মালা তখন পথচারী ও ডিউটিরত এক ট্রাফিক পুলিশ কে ছিনতাইকারীদের দেখিয়ে প্রতিকার চাইলে কেউ তার পাশে দাড়ায়নি, ট্রাফিক পুলিশ তাকে বলে আমাদের কাজ রাস্তা জ্যামমুক্ত রাখা ছিনতাইকারী ধরা না। হতাশ হয়ে মালা যায় পার্শ্ববর্তী পুলিশ বক্সে কিন্তু সেখানে তার অভিযোগ শোনার কেউ ছিলোনা।

এই ঘটনার ত্রিশ মিনিট পর একি স্থানে আবারো ঘটে ছিনতাইয়ের ঘটনা এবার ছিনতাইয়ের শিকার এক নারী পথচারী, এবারের কৌশল ভিন্ন, নারী পথচারি শাহনাজ বেগম দুই রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন এ সময় ঝড়ের বেগে এক ছেলে তার মোবাইলটি কেড়ে নিয়ে দৌড়ের উপর রাস্তার অপরপাড়ে চলে যায়, গাড়ীর ভীরে আর শাহনাজ তাকে দেখতেই পাননি, এপাড়ে এসে তিনি সবাইকে বলেন কিন্তু কারো সময় নেই তার কথা শুনার।

তখন রাত ১০.৩০ বাজে, এক ব্যবসায়ী তার বোনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য কাউন্টারের অপেক্ষা করছিলেন। হটাৎ করে ৩ জন যুবক এসে তার বোন বিথির ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে চলে যায়। তার বোনের ব্যাগের ভেতরে ব্যবসার ৩০ হাজার টাকাসহ বেশ কিছু গুরুত্বর্পূণ কাগজপত্র ছিলো।সবাই দেখলেও কেউ এগিয়ে আসেনি ছিনতাইকারীদের ধরতে। একই দিন দিনে দুপুরে কাউন্টারের সামনের গলি থেকে এক ব্যবসায়ীর ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।

গত সপ্তাহ জুড়ে আবদুল্লাহপুর এলাকায় প্রায় অর্ধ শতাধিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে বোঝা যায় আবদুল্লাহপুরে হটাৎ করে আবারো বেড়ে গেছে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা । বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এ চক্রটি। প্রায় প্রতিদিন এদের কবলে পড়ছে সাধারণ মানুষ। এতে করে যেমন সাধারণ মানুষরা আহত হচ্ছেন, তেমনি টাকা মোবাইলসহ অন্যান্য মালামাল হারাচ্ছেন। এ এলাকার নিয়ন্ত্রণ করছে পেশাদার ছিনতাইকারীর পাশাপাশি উঠতি বয়সের আশপাশের বস্তির নেশাখোর ছেলেরা। আর তাদের মদত দিচ্ছে পুলিশ এবং এক শ্রেনির সাংবাদিকরা।

ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আগামী সংখ্যায় থাকবে আরো বিস্তারিত

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

সিঙ্গেল ডিজিটের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল

Read Next

শাহজালাল বিমান বন্দরে ১০ কেজি সোনাসহ নারী ক্রু আটক

%d bloggers like this: