শিরোনাম
রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া: স্থানীয়দের জানমাল রক্ষায় উদ্যোগ নিন – প্রথম বেলা

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া: স্থানীয়দের জানমাল রক্ষায় উদ্যোগ নিন

কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এদের হাবভাব, আচার-আচরণেও তা প্রকাশ পাচ্ছে। স্থানীয় যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে হত্যার পর তাঁর ভাই আমীর হামজাকে লক্ষ করেও গুলি চালানো হয়েছিল। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা আমীর হামজা ও তাঁর পিতা আবদুল মোনাফকে হত্যা করা এবং বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। অনেক পরিবারকেই বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আমিনা খাতুন নামে এক নারী তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন, তাঁর চার একর জমি দখল করে রোহিঙ্গারা ঘর বানিয়েছে। গাছের ফলমূল নিয়ে যাচ্ছে। এখন গাছও কেটে নিচ্ছে। হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের আশপাশের এলাকাগুলোর স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অনেক এলাকায় সারা রাত পাহারা দেওয়া হয়। অনেকেই মনে করছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয়দের পক্ষে এলাকায় বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

জানা যায়, রোহিঙ্গা শিবিরগুলো দিনে মোটামুটি শান্ত থাকলেও রাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দাপট শুরু হয়ে যায়। অস্ত্র হাতে তারা ক্যাম্পের বাইরেও চলে আসে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এমন একটি দলের ওপর টর্চের আলো ফেলার কারণেই ওমর ফারুককে হত্যা করা হয়েছে। তদুপরি লাখো লোকের সমাবেশ করার পর থেকে তাদের আচার-আচরণেও উগ্রতা প্রকাশ পাচ্ছে। এটা প্রায় স্পষ্ট যে রোহিঙ্গাদের এই সমাবেশ আয়োজনে কাজ করেছে দেশি-বিদেশি কিছু এনজিও। রোহিঙ্গাদের তারা নানাভাবে উসকানি দিচ্ছে। বুধবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের নাগরিক বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকেও রোহিঙ্গাদের ২৫ আগস্টের সমাবেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় সমাবেশ কিভাবে তারা করতে পারল? সমাবেশের জন্য ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, গেঞ্জি—এসব কোথা থেকে এসেছে? এদিকে দুই দফা উদ্যোগের পরও প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। কোনো রোহিঙ্গা ফেরত যেতে রাজি হয়নি। এখানেও দেশি-বিদেশি এনজিওগুলো বিপরীত ভূমিকা পালন করেছে। কোনোক্রমেই ফেরত না যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের উদ্বুদ্ধ করেছে। এমনকি ভাসানচরে লাখখানেক রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের ব্যাপারেও তারা আপত্তি করছে। তাহলে এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের নিয়ে কী করতে চায়? তাদের অর্থদাতা পাশ্চাত্যের কোনো কোনো দেশের উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা কী—এমন প্রশ্ন সংগতভাবেই এসে যায়।

দ্বিতীয় দফায়ও প্রত্যাবাসন না হওয়ায় চীন দ্রুত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে। চীন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে। এটা আমাদের জন্য সুখবর। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। আরো খারাপ কিছু ঘটার আগেই শিবিরগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্থানীয়দের রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশকে অন্যত্র স্থানান্তর করতে হবে।

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

‘গলি বয়’ রানার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন তৌহিদ আফ্রিদি

Read Next

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বাত্মক কর্মসূচি নিন

%d bloggers like this: