শিরোনাম
নওগাঁ মহাদেবপুর রাইগাঁ ৭ বছরের শিশু ধর্ষন,লম্পটের হাত থেকে বেঁচে রক্ষা পেলো আরও ২টি শিশু – প্রথম বেলা

নওগাঁ মহাদেবপুর রাইগাঁ ৭ বছরের শিশু ধর্ষন,লম্পটের হাত থেকে বেঁচে রক্ষা পেলো আরও ২টি শিশু

হাবিবঃ এক লম্পট ৩টি শিশুকে এক সাথে নিজ বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে,  ১ম শ্রেনির ছাত্রী মোছাঃ সোনিয়া (৭) কে ধর্ষন করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজী,রাইগাঁ ইউনিয়নে। শিশুটির আত্নচিৎকারে আশে-পাশের লোকজন ও সব শিশুর মা- বাবা এসে শিশু গুলোকে উদ্ধার করে। ধর্ষক বুঝে উঠার আগেই পালিয়ে যায়।
মামলা সুত্রে জানা যায়, মোঃ ছয়ফুল ইসলামের মেয়ে মোছাঃ নাছরিন সুলতানা সোনিয়া (৭) প্রথম শ্রেনীর ছাত্রী সহ আরো দুটি শিশু মোছাঃ রাফিয়া (৫) ও মোছাঃ ফাতেমা (৬) প্রতিদিনের মত স্কুল থেকে বাড়ী এসে বাড়ীর সামনে বাঁশের মাচাঁয় খেলা করছিল। একই পাড়ার লম্পট, মোঃ মান্নান হোসেন,(২৮) পিতাঃ মৃতঃ রমজান আলী, চকলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তার বাড়ীতে নিয়ে যায়।রাফিয়া ও ফাতেমাকে বারান্দায় রাখিয়া সোনিয়াকে ঘরের ভিতর নিয়ে যায়,এরপর শিশুটির হাত বেঁধে জোর করে শিশু পরোনের হ্যাপপ্যান্ট টেনে,ছিড়ে ধর্ষন করতে লাগলে  শিশুটির চিৎকার দিলে আশে পাশের লোকজন শুনতে পায়, নিজ শিশুকে খুঁজতে বের হওয়া সোনিয়ার মা-বাবা সহ অন্য শিশুর মা- বাবারাও উপস্থিত হয়। ধর্ষক মান্নান সকলের উপস্থিতি টের পেয়ে শিশুটির মুখ ও পা বেঁধে চৌকির নিচে রেখে দরজা খুলে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সোনিয়া কোথায়?  সে জানিনা বলেই দৌড় দেয়। এবং দৌড়ে পালিয়ে যায়। সকলে ঘরের ভিতর গিয়ে দেখে ততক্ষনে শিশুটি চৌকির নিচে থেকে বেরিয়ে এসেছে, তার হাত,পা,মুখের বাঁধন খুলে দিলে শিশুটি সবকিছু মা-বাবা সহ উপস্থিত সকলকে কাঁদতে কাঁদতে উপরোক্ত ঘটনা খুলে বলে। শিশুটি গোপঙ্গে থেকে রক্ত ঝড়ছিল,আর ছেঁড়া হ্যাপপ্যান্টটি মেঝেতেই ছিলো, ঐ প্যান্টট শিশুকে পড়িয়ে বাড়ী নিয়ে আসে। ধর্ষিত শিশুটির মা জানায়,ঐ দিন রাত থেকে শিশুটির প্রচন্ড জ্বর ও ব্যাথায় চিৎকার করতো,টাকা পয়সা নেই, তবুও ঐ রাতে ঔষধের দোকানে গিয়ে বাঁকীতে ঔষধ নিয়ে বাচ্চাকে খাইয়ে দিই। পরদিন থেকে স্থানীয় অনেকেই তাদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখায়, থানায় যেতে মানা করে, মামলা করতে নিষেধ করে।মোঃ ছয়ফুল ও তার স্ত্রী গরীব অসহায় দিনমজুর মাতাজিহাটে প্রতিদিন কুলিগিরি করে খাওয়া মানুষটি, বিচার পাওয়ার আশায় ছেড়ে দেয়। রাইগাঁ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মন্টু সাহেব জানান, আমরা স্কুলের শিক্ষিকাদের দিয়ে, আমাদের স্কুলের চারটি শিশুর কাছ থেকে শুনেছি, তাদের মধ্য দুটি শিশুকে ধর্ষন করেছে মান্নান। শিশুরা আমাদের ম্যাডামকে সব কথা বলেছে, দুটি শিশুর মধ্য এক শিশুর পিতা-মাতা বিচার চায় আরেক শিশুর পিতা কি কারনে চুপ করে আছে আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন, চারটি শিশুই আমাদের স্কুলের প্রথম শ্রেনীর ছাত্রী।এরপর সোনিয়ার পিতা-মাতা আত্নীয়- স্বজন সবাইকে ডেকে আলাপ- আলোচনা করে মহাদেবপুর থানায় গিয়ে ধর্ষিত শিশুর মা মোছাঃ তছলিমা বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা করে। মামলা নং ২৬/১৯ তাং ২৮/০৭/২০১৯ ইং, ধারা ৯ (১)। মামলাটির আয়ু এস আই মোঃ এরশাদ রক্ত মাখা শিশুটির হ্যাপপ্যান্ট থানায় জমা
রাখে। মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের নির্দেশে  মাতাজী (তদন্ত কেন্দ্র) পুলিশ ফাঁড়ীর দায়ীত্বে থাকা আই,সি মোঃ মাসুদ রানা ঐ রাতেই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বখাটে,লম্পট,ধর্ষক মান্নানকে  অনেক চেষ্টা করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। স্থানীয়রা সুষ্ঠ ও সঠিক বিচারের দাবী চেয়ে জানায়, ঐ ধর্ষনকারী মান্নান আরো একটি শিশু বাচচ্চাকে ধর্ষন করেছে, তারা  মান-সম্মানের ভয়ে বা বিভিন্ন ভাবে আপোষ হয়েছে। নরপিশাষ ধর্ষক মান্নানকে এই রাতেই যে পুলিশ ধরতে পারবে তা আমাদের বিশ্বসই হচ্ছি না। মাতাজী পুলিশ ফাঁড়ীর আই,সি মাসুদ রানা সাহেবের বিচোক্ষনতায় গ্রেফতার করার জন্য উনার প্রতি আমরা খুবই খুশি এবং ধন্যবাদ জানাই।

Attachments area

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীঃ র‌্যালিসহ দু’দিনের কর্মসূচি

Read Next

ভয়াল একুশে আগস্ট আজ

%d bloggers like this: