শিরোনাম
যশোরের দেড়শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ই ঝুঁকিতে – প্রথম বেলা

যশোরের দেড়শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ই ঝুঁকিতে

যশোর প্রতিনিধি : যশোর জেলার প্রায় দেড়শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ই ঝুঁকিতে এবং শঙ্কা মধ্যেই এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চালানো হচ্ছে পাঠদান।

যশোর শহরের ঘোপ সেবা সংঘ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে দেখা দিয়েছে ফাটল। খসে পড়ছে পলেস্তারা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাঈদা ইয়াসমিন জানালেন, বিকল্প কোনো ভবন না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চালানো হচ্ছে পাঠদান। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। স্কুলের নতুন ভবনের জন্য আবেদনও করা হয়েছে।

যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের নালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা আরও করুণ। দেয়ালের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। টিনের চাল ভেঙে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে জমে যায় পানি। বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে টিনের চাল। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তারপরও বিকল্প পাঠদান ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান।

শুধু ঘোপ সেবা সংঘ বা নালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নয়, যশোরের প্রায় দেড়শ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনেরই এমন দশা। কোনোটির জরাজীর্ণ ভবন থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোনোটির টিন ভেঙে পড়ে পানি। আবার শ্রেণিকক্ষে নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা। নেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটও।

যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, জেলায় মোট ১ হাজার ২৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১৪৭টি স্কুলের ভবনের অবস্থা করুণ। এসব স্কুলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এতে যেমন পাঠদান ব্যহত হচ্ছে, তেমনি থেকে যাচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় রয়েছে শার্শা উপজেলায়। এ উপজেলার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো হলো, উলাশী, শিববাস-শালকোনা, নাভারণ রেলবাজার, বালুন্ডা, সুবর্ণখালি, বসতপুর ও খলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

যশোর সদর উপজেলায় ১৮টি স্কুল রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায়। এর মধ্যে টি.কে.জী. সম্মিলনী বিদ্যালয়, রামকৃষ্ণ আশ্রম বিদ্যালয়, সেবাসংঘ স্কুল, দেয়াড়া স্কুল ও চাউলিয়া স্কুল রয়েছে বেশি ঝুঁকির তালিকায়।

অভয়নগর উপজেলায় ৩টি ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে পুড়াটাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

কেশবপুর উপজেলাতে ৪টি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে গৌরীঘোনা ইন্দ্রমতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

চৌগাছা উপজেলায় ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এরমধ্যে হোগলাডাঙ্গা, পাতিবিলা, বল্লভপুর রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

ঝিকরগাছা উপজেলায় ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। তার মধ্যে ডহর মাগুরা, নবগ্রাম, টাত্তরা, দোস্তপুর, দেউলি নাভারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে বেশি ঝুঁকিতে।

বাঘারপাড়া উপজেলায় ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে বহরমপুর, করিমপুর, পি.টি.এম, দশপাখিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যতম।

মণিরামপুর উপজেলায় ২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে। তার মধ্যে উত্তরপাড়া, সুবলকাঠি, ভোজগাতি, লাউলি, বাটবিলা, মদনপুর, কুচলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা সবচেয়ে করুণ।

সদরের ঝুঁকিপূর্ণ নালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টির ১ম ভবন ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পরে ১৯৯৫ সালে দেয়াল করে টিনের চালা দেওয়া হয়। সেই টিনে মরিচা ধরেছে। কোথাও কোথাও টিনে ফুটো হয়েছে। বাঁশ দিয়ে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে বিদ্যালয়ের ৩১০ জন শিক্ষার্থীকে দেয়া হচ্ছে পাঠদান। বিভিন্ন সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, যশোর জেলায় ৮টি উপজেলার ১৪৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্ণিত করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে বিকল্প কোনো ভবন না থাকায় বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ ভবনের তালিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রালয়ের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই এসব স্কুলের ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

কাঠমান্ডুতে পৃথক ৩ বিস্ফোরণে ৪ জন নিহত

Read Next

বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচ : মঙ্গলবার টাইগারদের প্রতিপক্ষ ভারত

%d bloggers like this: