শিরোনাম
মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির ‘সেং কুটস্নেম’ উৎসব – প্রথম বেলা

মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির ‘সেং কুটস্নেম’ উৎসব

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মাগুরছড়া পুঞ্জিতে নিজেদের ঐতিহ্যময় জীবনযাত্রা, কৃষ্টি আর সংস্কৃতি চর্চার মধ্যদিয়ে খাসিয়ারা বর্ষবরণ পালন করলো ‘সেং কুটস্নেম’ উৎসব নতুন বছর বা খাসি বর্ষ সমাপনী দিন । শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় মাগুছড়ার ফুটবল খেলার মাঠে দিন ব্যাপী আয়োজন করা খাসি বর্ষবরণ ও বর্ষসমাপনী দিন ।এটাকে আবার “সেং কুটস্নেম ”উৎসব নামে তাদের মাঝে পরিচিত।

নতুন বছরে আয়োজনে ছিল খাসিদের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, নাচ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর আদিবাসীদের নিজস্ব পণ্যসামগ্রীর মেলা। স্থানীয়ভাবে খাসি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৫৪তম বর্ষকে বিদায় ও ১৫৫তম বর্ষকে বরণ করা হয়েছে। মাগুরছড়া পুঞ্জি খাসিদের ম‚ল জীবিকা পান চাষ। তাই ক্রীড়ানুষ্ঠান পর্বে আয়োজন করা হয় ‘পানগুছি খেলা’। গাছ থেকে পান তোলার পর অংশগ্রহনকারীরা বেছে বেছে গুছিয়ে বড়জে সাজানো হয় এ খেলায়। থাকে ঐতিহ্যবাহী গুলতি আর তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগীতা। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা তীরন্দাজরা অংশ নেন বিলুপ্তপ্রায় এ খেলাতে। যুদ্ধের নাচ আর আনন্দ নৃত্য থাকে বিশেষ আকর্ষণ। বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিলো: খাসি নৃত্য, তৈলাক্ত বাশ বেয়ে উপওে উঠা, ‘পানগুছি খেলা’ গুলতি দিয়ে ঢিল ছোড়া, মাছধরা ইত্যাদি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অষ্ট্রেলিয়ার হাই- কমিশনার মিসেস জুলিয়া নিমলেট, শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ (সার্কেল) এ এসপি আশরাফুজামান, কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, খাসি সোস্যাল কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান পিডিশন প্রধান ফিলাপথমি,বৃহত্তর সিলেট আধিবাসী ফোরাম’র মহাসচিব জিডিশন সুছিয়াং সহ প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বিভিন্ন প্রতিযোগীতার বিজয়ীদের হাতে পুরুষ্কার তোলে দেন এসময় অষ্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনার মিসেস জুলিয়া নিমলেট বলেন, খাসিদের এই বর্ষে সমাপনী, নতুন বছরের উৎসবের সাজসজ্জা আসলেই মনোমগ্ধকর. প্রকৃতির রংগের সাথে মিল রেখে উৎসবের সাজসজ্জা দেখার মত। তাদের পোষাক পরিচ্ছেদ সবার থেকে আলাদা। অনুষ্ঠানে তিনি খুবই আনন্দিত বোধ করেন। এসময় তিনি ঘোরের মেলার দোকান গুলো দেখেন।মাগুছড়া ফুটবল খেলার মাঠে চার পাশে সাজানো হয়েছে প্রকৃতি পরিবেশে বিভিন্ন গাছগাছালির লতাপাতা দিয়ে।

মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পাহাড়ী অঞ্চলের ৭০ টি খাসি পুঞ্জিতে প্রায় ৩০ হাজারের অধিক খাসি স¤প্রদায়ের বসবাস।ম‚লত তাদের নিজস্ব বর্নিল ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতেই তাদের এ আয়োজন। উৎসবে খাসিদের নিত্যপণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর অর্ধশতাধিক স্টল সাজিয়ে বসেন উদ্যেক্তারা।এসব স্টলে খাসিদের পোষাক, বিভিন্ন জাতের ফলম‚ল, জুমচাষের উপকরন ও খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করা হয়।খাসি স¤প্রদায়ের এই সংস্কৃতি টিকে থাকবে যুগযুগ ধরে। সেই সাথে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ অধিকার বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগী হবে-এমনটাই চাওয়া আদিবাসীদের।

0 Reviews

Write a Review

Read Previous

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কারিগরি ত্রুটি

Read Next

টাঙ্গাইলে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত

%d bloggers like this: